মাওলানা মুহাম্মাদ ফজলুল বারী।।
আল্লাহ তাআলা নারী জাতিকে সৃষ্টি করেছেন। তিনিই তাঁদের নিরাপত্তা বিধান করেছেন। নারীর নিরাপত্তা বিধানে তিনি নারী-পুরুষ উভয়ের প্রতি কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন, দিয়েছেন কিছু বিধান। এই বিধান ও নির্দেশনা নারী-পুরুষের স্রষ্টার পক্ষ থেকে, যিনি জানেন তাদের স্বভাব-প্রকৃতি, তাদের চাহিদা ও প্রবৃত্তি এবং তাদের জীবনের বাস্তব অবস্থাগুলো। সুতরাং নারীর নিরাপত্তা আল্লাহর বিধানে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের কিছু ভাই-বোন ইসলামের শিক্ষা থেকে দূরে থাকার কারণে এবং বিজাতীয় জ্ঞান-বিদ্যা ও কালচারে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছেন না।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিদ্ধ এক জাতীয় দৈনিকের একটি শিরোনামে চোখ পড়তেই পড়া শুরু করলাম- ‘নীরব থাকার সংস্কৃতি ঝেড়ে ফেলতে হবে’। এখানে কিশোরী নির্যাতনের কাগজ-কলমের যে পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়েছে তা রীতিমত আঁতকে ওঠার মতো। মাত্র ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সের কিশোরীরা ...নির্যাতনের শিকার। এদের হার শতকরা ৩৪.২ শতাংশ।
এ যুলুম থেকে বাঁচার জন্য লেখিকা দুটি পথ বাতলেছেন। এক. নীরব থাকা চলবে না; সোচ্চার হতে হবে। দুই. দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
কিশোরীদের যুলুমের হাত থেকে বাঁচাতে লেখিকার আন্তরিকতাকে ধন্যবাদ। কিন্তু একটি বিষয় আমার বুঝেই আসে না। তিনি এবং তাঁর মত যারা নারীকে যুলুমের হাত থেকে বাঁচাতে চান, কেন যেন মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও সচেতনভাবে এসব বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা এড়িয়ে যান। কেউ কেউ যদিও ছোট্ট করে বলেন, ‘ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা জরুরি’, কিন্তু জানা সত্ত্বেও, বুঝা সত্ত্বেও ইসলামের নির্দেশনা এড়িয়ে যাওয়াই যেন নিয়ম; পাছে আবার কে সাম্প্রদায়িক বলে বসে বা সেকেলে।
লেখিকা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা বলেছেন। অবশ্যই! ইসলামও তাই বলে- এ গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূক শাস্তিই হওয়া চাই। যত বড় অন্যায়, শাস্তিও তেমন কঠিন হওয়া চাই। নারী-বিষয়ক অপরাধের ক্ষেত্রে ইসলামের চেয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ঘোষণা আর কেউ দেয়নি। আর ইসলামের সেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রসঙ্গ আসলে এসব পরামর্শদাতা লেখক-লেখিকা তখন অতি মানবতাবাদী হয়ে উঠেন। অপরাধীর প্রতি তখন তাদের অতিমানবতাবোধ উথলে ওঠে; দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা ভুলিয়ে দেয়। এটিই আসলে আল্লাহর বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার ফলাফল- উদভ্রান্তের ন্যায় এদিক ওদিক ছুটে চলা। একবার এদিকে দরদ, আরেকবার ওদিকে মায়াকান্না।
কতজন কত পরামর্শ দেন কিন্তু সচেতনভাবেই যেন অপরাধের মূল শেকড়টি