সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে উস্তাদ নুমান আলী খানের অসাধারণ খুৎবা (২য় পর্ব)

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মোস্তফা ওয়াদুদ
নিউজরুম এডিটর

প্রথম পর্ব প্রকাশের পর..., প্রথম পর্ব

আমার খুৎবার প্রথম অংশ এই অংশের সাথে সম্পর্কহীন মনে হতে পারে। প্রথম অংশে আমি বলেছি আল্লাহ মানুষকে খুব সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করেছেন এবং খুব আকর্ষণীয় করে তৈরি করেছেন।

এখন শুনুন, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা শয়তানের মনের ভেতর থেকে কী বর্ণনা করছেন। আল্লাহ আমাদেরকে শয়তানের মনের ভেতর নিয়ে যাচ্ছেন। فَوَسۡوَسَ لَهُمَا الشَّیۡطٰنُ - ‘শয়তান অবিরত তাদের কুমন্ত্রণা দিল এবং দূরে সরে গেল। ওয়াসওয়াসা মানে, হামাসা ওয়া গা-বা। সে তাদের কাছে যেতো কুমন্ত্রণা দিতো এবং অদৃশ্য হয়ে যেতো। এরপর আবার কুমন্ত্রণা দিতো এবং আবার অদৃশ্য হয়ে যেতো।

ব্যাপারটা হলো, ক্রমাগত কারো কাছে একই বার্তা বারবার প্রচার করা, যতক্ষণ না সে তা গ্রহণ করে নেয়। প্রোপাগান্ডা এভাবেই কাজ করে। আপনাদের কী মনে হয়? কেন তারা একই অ্যাড বারবার প্রচার করে? যেন আপনার তা একেবারে মুখস্থ হয়ে যায়। যদি ওয়াসওয়াসা বারবার দেওয়া না হয়, তবে এটি আপনার চিন্তার অংশ হবে না। কোকের একটি বিজ্ঞাপন দশ-পনের বার দেখার পর হঠাৎ করেই আপনার ইফতারিতে কোকের প্রয়োজন হয়। ভাবছেন- ‘কিরে কোকের চিন্তা কোত্থেকে মাথায় এলো?’ এটা আপনার মাথায় গেঁথে দেওয়া হয়েছে। তাহলে, ওয়াসওয়াসা মানে, মনের মধ্যে কোনো কিছুর ধারণা বারবার প্রবেশ করিয়ে দেওয়া।

এখন তার উদ্দেশ্য কী ছিল? আল্লাহ বলেন- لِیُبۡدِیَ لَهُمَا مَا وٗرِیَ عَنۡهُمَا مِنۡ سَوۡاٰتِهِمَا - তিনি এখানে গাছের কথা উল্লেখ করেননি। শয়তান তাদের বারবার কুমন্ত্রণা দিতে লাগলো- এই অংশটি মনোযোগ দিয়ে শুনুন- ‘তাদের কুৎসিত অংশ থেকে যা ঢাকা ছিল, যাতে সে তাদের জন্য তা প্রকাশ করে দেয়’ অর্থাৎ তাদের উলঙ্গ শরীর।

এখন এই অংশটি বুঝা একটু কঠিন। কারণ, ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে একই সূরার আরেকটি আয়াতে আল্লাহ বলেন, তিনি আমাদের সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। এখন, আল্লাহ বলছেন শয়তান চেয়েছিল আমাদের পিতামাতা যেন কুৎসিতরূপে একে অপরের নিকট প্রকাশিত হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, উলঙ্গ অবস্থায়। সে চেয়েছিল তাদের নিকট থেকে তাদের জামা-কাপড় খুলে ফেলতে। এটাই ছিল তার লক্ষ্য।

এখানে দুইà