সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


অন্যরকম এক শিক্ষানুরাগীর গল্প

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম সাদিক

উচ্চমাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে যাকে জীবিকার সন্ধানে দেশ ছাড়তে হয়েছিল, পারিবারিক টানাপোরানের কারণে শিক্ষাজীবনের অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটেনি। যার ওপর ছোট ভাইবোনের বিশাল দায়িত্ব কাঁধে, তার পক্ষে কতটা শিক্ষানুরাগী হওয়া সম্ভব? হ্যাঁ এমনই একটি প্রশ্নের জলজ্যান্ত উদাহরণ কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামে জন্ম নেওয়া মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী। বর্তমানে তিনি আমেরিকা প্রবাসী।

আমেরিকার অন্যান্য ট্যাক্সি-উবার চালকদেরই মাঝে তিনিও একজন। নিউইয়র্কের পথে পথেই কেটেছে তাঁর ২৯টি বছর। তিনি নিউইয়র্কে ট্যাক্সিক্যাব চালান, কখনো ফাস্টফুডের দোকানে আবার কখনো নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। উদ্দেশ্য একটাই, অর্থ উপার্জন করে পরিবার ও সমাজের জন্য কিছু একটা করা। জনহিতকর কাজে লাগাতে হবে নিজের ঘাম ঝরানো অর্জন। যার রক্ত ঝরানো ঘামে আজ গড়ে উঠেছে একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বলছিলাম জীবন সংগ্রামের নায়ক মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর কথা। ১৯৬৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী ও মোসাম্মাৎ আশেদা খাতুন চৌধুরী দম্পতির প্রথম সন্তান মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী। ১৯৭৪ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী মারা যান।

৬ সন্তানকে বুকে নিয়ে মায়ের সংগ্রামী পথচলা নিজ চোখে দেখেছেন মোশাররফ। চাচাদের সহায়তায় কোনো মতে দিন চলে তাদের। ১৯৮৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর কাতারে চলে যান জীবিকা নির্বাহের তাগিদে। ১৯৮৯ সালে দেশে এসে ধান্যদৌল গ্রামে বাবার নামে আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

বর্তমানে সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার। এরপর ১৯৯৪ সালে মা ও দাদির নামে আশেদা-জোবেদা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা গড়ে তোলেন। ২০১৪ সালে বোর্ড সেরা ২০টি কলেজের তালিকায় স্থান করে নেয় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার মোশাররফ হোসেন খান ডিগ্রি কলেজ। ১৯৯৯ সালে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর সেখানে স্নাতক কোর্স চালুর দাবি ওঠে।

সেই দাবি বাস্তবায়নে মনোযোগী হয় সরকার। এখন কলেজটিতে ১০টি বিষয়ে স্নাতক শিক্ষা চালু আছে। সেখানে ৩ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। একই বছর এই উপজেলা সদরে আবদুল মতিন খসরু মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বর্তমানে সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০০-এর উপরে। ২০০২ সালে মুমু রোহান কিন্ডার গার্টেন নামে একটি বিদ্যালয় স্থাপন করেন। সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্য