।।ফারুক ফেরদৌস।।
ইখতেলাফ সাহাবায়ে কেরামের সুন্নাহ। সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই ইসলাম বিভিন্নভাবে পালিত হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন রকম মতামত বা চিন্তাধারা মুসলমানদের মধ্যে জায়গা পেয়েছে। এই ইখতেলাফ বা মতবিরোধে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে গোমরাহ বলেননি, ভ্রান্ত বলেননি।
বলেছেন আমার দৃষ্টিতে আমার মত সঠিক মনে হচ্ছে। তার মত ভুল মনে হচ্ছে। হতে পারে তার মতই ঠিক, হতে পারে আমার মত ভুল। কারণ বিষয়গুলো ছিলো মুজতাহাদ ফীহ, কাতঈ বা সুনিশ্চিত কিছু না। আল্লাহ বা রসুল সা.-এর পক্ষ থেকে নিশ্চিতভাবে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা ওইসব বিষয়ে ছিলো না।

তাদের পরে তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ী ও আইম্মায়ে মুজতাহিদীন ‘মুজতাহাদ ফীহ’ বিষয়ে ইখতেলাফ ও বিরোধীদের ব্যাপারে মন্তব্যের ক্ষেত্রে তাদের দেখানো পথই অনুসরণ করেছেন। এই ইখতেলাফ, ভুল শুদ্ধের সম্ভাব্যতা, বৈচিত্র্য ধারণ করার সামর্থ্য ইসলামের বড় একটা সৌন্দর্য। উম্মতের জন্য রহমত।
সালফে সালেহীন, হকপন্থী ওলামায়ে কেরাম এই ইখতেলাফ বা বৈচিত্র্যকে দেখেছেন রহমত এবং হকের পরিসরে প্রশস্ততা হিসেবে। ইবনে কুদামা আল মাকদিসী রহ. তার আল-মুগনী কিতাবে বলেছেন, আল্লাহ উম্মতের আলেম ও ইমামদের মাধ্যমে ইসলামে কাওয়ায়েদ বা মূলনীতিসমূহকে বিন্যস্ত করেছেন এবং জটিল আহকামগুলো স্পষ্ট করেছেন। তাদের ঐক্যমত্য যেমন নিশ্চিত দলিল, তাদের ইখতেলাফও রহমত ও প্রশস্ততা।
আবু বকর ইবনুল আরাবী তার কিতাব আহকামুল কুরআনে বলেছেন, যে সব ব্যাপারে আল্লাহর সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই, সেই সব ব্যাপারে রাসুল সা.-এর পরে ওলামায়ে কেরাম ইখতেলাফ করেছেন, কোনো আলেম হালাল বলেছেন কোনো আলেম হারাম বলেছেন, কোনো মুজতাহিদ ওয়াজিব বলেছেন, কোনো মুজতাহিদ ওয়াজিব বলেননি। ওলামায়ে কেরামের এই মতবিরোধ মানুষের জন্য রহমত, সত্যের পরিসরে প্রশস্ততা ও সহজতার কারণ।
সুতরাং মুজতাহাদ ফীহ বিষয়ে ইখতেলাফ সাহাবায়ে কেরাম ও সালফে সালেহীনের সুন্নাহ কিন্তু এই ইখতেলাফে প্রতিপক্ষকে গোমরাহ বা বিভ্রান্ত বলা বিদআত।
আমাদের অঞ্চলে বিভিন্ন মুজতাহাদ ফীহ বিষয়ে মতবিরোধ নিয়েও আমরা যে অসহিষ্ণুতার চর্চা দেখি, এটা ঘটছে এই বিদআতের প্রসারের কারণে। ওলামায়ে কেরাম সাধারণ মানুষকে শুধু নিজেদের মত বোঝান, ইখতেলাফের কারণ বা হক বোঝান না। ফলে সাধারণ মানুষ ওই মতের পক্ষ নিয়ে জী