মুহাম্মাদ তাওহীদুল ইসলাম তায়্যিব।।
সেদিন ঢাকায় ‘সিটিং সার্ভিস’ উপাধির একটি লোকাল বাসের যাত্রী হলাম। স্বাভাবিক নিয়মেই গাড়িভর্তি যাত্রী। যে পরিমাণ যাত্রী সিটে বসা, দাঁড়ানো যাত্রীর সংখ্যা তার সমান না হলেও কাছাকাছি। এরপরও ছোট-বড় প্রত্যেক স্টেশনে গাড়ি থামছে। এমনকি রাস্তার পাশে যেখানেই লোকজনের জটলা, যেন অনিচ্ছাতেই গাড়ি গিয়ে সেখানে আটকে পড়ছে। এরপর সেখান থেকে কখনো কেউ উঠছে, কখনো উঠছে না।
এভাবেই জ্যাম ঠেলে ঠেলে গাড়ি এগুচ্ছে।
অন্য অনেক যাত্রীর সঙ্গে আমিও দাঁড়ানো। বসে থাকা এক যাত্রীর সিট ধরে অনুগ্রহভারে নীরব।
হঠাৎ বাচ্চা কোলে নিয়ে এক দম্পতি গাড়িতে উঠলেন। বাচ্চাটি প্রথমে ছিল বাবার কোলে। কিছুক্ষণ পর মায়ের কোলে এলো। মা বোরকা পরিহিতা এক নারী। ‘মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত আসন’ দখল করে আছে কয়েকজন পুরুষ। সংরক্ষিত আসন দখল করা এক পুরুষ যাত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে আছে বোরকা পরিহিতা নারী। আমি তার কয়েকজন পর।
বাচ্চাটি আবার কোল পরিবর্তন করল। কিছুক্ষণ পর আবার। জ্যামে আটকে থাকা গাড়িতে আমরা প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে আছি। কয়েকবার ইচ্ছে হলো মহিলা আসনে বসা পুরুষদের কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করি। পরে মনে হল, মহিলা যাত্রী তো আরও কয়েকজন দাঁড়ানো। শুধু একজনের জন্য কী বলব? তাছাড়া কারো চেহারার দিকে তাকিয়েও মন সায় দিল না। কিন্তু বাচ্চাটির দু-দুবার কোল পরিবর্তন দেখে তার এবং তার মা-বাবার কষ্ট যেন কিছুটা অনুভব করলাম। মনে হলো, বাচ্চার আগ্রহে নয়, মা-বাবার প্রয়োজনেই কোল পরিবর্তন হচ্ছে। তাই একজনকে বললাম, ভাই! বাচ্চা নিয়ে মহিলাটির খুব কষ্ট হচ্ছে...।
কথা শেষ হওয়ার আগেই তিনি বললেন, আমার পায়ে ব্যথা। দাঁড়িয়ে থাকতে পারব না। পাশের জনকে বললাম, আপনি একটু....। তিনি যুক্তির আলোকে বুঝালেন, লোকাল গাড়িতে উঠলে একটু কষ্ট করতেই হয়।
বললাম, এগুলো তো মহিলা সিট। সে হিসেবেও অন্তত...।
তিনি বললেন, গাড়িতে কোন মহিলা সিট হয় না। ভাড়া তো সবাই সমান দিবে। তাহলে পার্থক্য কিসের?
আশ্চর্য হলাম।
পাশের কেউ কোন কথা বলল না। এতক্ষণ মহিলাটি বাচ্চা কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে—যেন কারো নজরেই পড়েনি। মহিলার স্বামীও বোধহয় কিছু বলার সাহস পেলেন না।
আমি আমার নরম স্বভাবের কারণে শক্তভাবে কাউকে কিছু বলতে পারলাম না। মনে তীব্র কষ্ট নিয়ে নীরব দাঁড়িয়ে রইলাম। আমাদের মানসিক অবস্থা ও বিবেকহীন সামাজিকতà¦