সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


যোগ ব্যায়াম করা বৈধ কী? শরিয়ত কী বলছে?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: প্রশ্ন: সম্মানিত মুফতি সাহেব! ইদানিং আমাদের দেশে যোগ ব্যায়াম নামে শরীর চর্চার একটি পদ্ধতিকে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে জনপ্রিয় করা হচ্ছে।

হিন্দুদের উপাসনার মত আসন গ্রহণ করত: মেন্টালিটি মোডিভেশনের মাধ্যমে এ যোগ ব্যায়াম করা হয়। অনেকে বলেন, এটা হিন্দুদের বিশেষ ধর্মাচার তাই এ ব্যায়াম করা মুসলমানদের জন্য হারাম। তাদের এ কথা কি সঠিক? যদি সঠিক হয় তাহলে দলিলসহ বিস্তারিত জানতে চাই। কোন মুসলমান কেবল শরীর চর্চার উদ্দেশ্যে এ ব্যায়াম করতে পারবে কি-না? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর: ‘যোগ’ সংস্কৃত শব্দ। উর্দূতে বলা হয় يوگا (ইওগা) আর ইংরেজিতে ণঙএঅ। বাংলায় ‘যোগ’ আর এ যোগ থেকেই যোগ ব্যায়াম। উর্দূ-বাংলা অভিধান ফরহাঙ্গে কাসেমিতে আছে-يوگ‘ সঃ নাঃ পুঃ; ধর্মাচার, ধর্মকর্ম’। (ফরহাঙ্গে কাসেমী, পৃ. ৯৯১)। বাংলা একাডেমী প্রবর্তিত ব্যবহারিক বাংলা অভিধান মতে ‘যোগ হিন্দু দর্শন মতে জীবাত্মা ও পরমাত্মার মিলন; তপস্যা; ধ্যান; মায়া বি হিন্দু শাস্ত্রোক্ত দুর্গা দেবী, মহামায়া; ভগবানের লীলা বিস্তারিনী শক্তি; আদ্যাশক্তি।

সাধন সাধনা বি হিন্দু শাস্ত্রোক্ত যোগাভ্যাস; যম, নিয়ম, প্রাণায়ামাদি অভ্যাস। যোগাসন বি যোগ সাধনায় উপবেশন বা উপবেশনের পদ্ধতি।’ (ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, পৃ. ১০১৩)।

আরেকটু পরিস্কার করে বললে, যোগ হচ্ছে বেদ ভিত্তিক ভারতীয় ছয়টি দর্শনের একটি। যোগ দর্শনের প্রবর্তক পতঞ্জলি (খ্রি. পূ. ২য় শতক) এ জন্য এর অপর নাম ‘পাতঞ্জল দর্শন’।

পতঞ্জলির যোগ শাস্ত্রের চারটি পাদ। প্রথম পাদে আলোচিত হয়েছে যোগের লক্ষণ ও সমাধি। দ্বিতীয় পাদে সমাধি লাভের পূর্বে অনুসরণীয় ব্যবহারিক যোগ এবং যম, নিয়ম আসন ইত্যাদি যোগাঙ্গের কথা আলোচনা করা হয়েছে। তৃতীয় পাদে ধারনা, ধ্যান, সমাধি এসবের ফল এবং বিভ‚তি বা ঐশ্বর্য আলাচিত হয়েছে। চতুর্থ পাদে পাঁচ প্রকার সিদ্ধি ও পরা প্রয়োজন কৈবল্যের আলোচনা করা হয়েছে। বিস্তারিত জানতে দেখুন, বাংলাপিডিয়া, পৃ. ৯/৪৫৭।

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাপিডিয়াতে আরো আছেÑ যোগ মতে পরমেশ্বর ক্লেশ, কর্ম, কর্মফল, সংস্কার ইত্যাদি থেকে মুক্ত পুরুষ বিশেষ। তিনি লীলাবশে বহু দেহ ধারণ করে লৌকিক ও বৈদিক সম্প্রদায় প্রবর্তন করেন এবং দুঃখদগ্ধ সংসারী জীবগণের প্রতি কৃপা করেন। (বাংলাপিডিয়া, পৃ. ৯/৪৫৭)।

আর এ যোগের আটটি অঙ্গের (তথা যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান ও সমাধি) তৃতীয় অঙ্গ আসনই হচ্ছে বর্