মুহাম্মদুল্লাহ আহনাফ
সময়টা ছিল ১৯৯৪ সালের ৩০শে জুন। গোটা দেশ তখন জনসাধারণে উত্তাল-উৎকট। গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দর, পাড়া-মহল্লার তরুণ-যুবকরা সবাই রাস্তায়। দাবি তাদের একটাই! গোস্তাখেরাসূল তসলিমা নাসরিনের বিচার চাই।
তসলিমা নাসরিন তার কথায় আল্লাহর রাসূল সা. ও কুরআনের কিছু আয়াত নিয়ে কটুক্তি ও মন্দবাক্য উচ্চারণ করে। যা মেনে নিতে পারেনি ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আশিকে রাসূলগণ। রাগে, দুঃখে, ক্ষোভ ও ক্রোধে ফেটে পড়ে। শুরু হয় প্রতিবাদ। তীব্র প্রতিবাদ।
নবী প্রেমে উজ্জীবিত ধর্মপ্রাণ মানুষের এহেন কঠোর প্রতিবাদে বোরকা পরেই দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয় তসলিমা নাসরিন—যে বোরকাই ছিল তসলিমা এবং তার মতো নষ্টাদের চুলকানি।
নবী প্রেমের এই প্রতিবাদে—আমাদের কিশোরগঞ্জের নবিপ্রেমীকরাও রাস্তায় নেমেছিলেন। আন্দোলন করেছিলেন জানপ্রাণ দিয়ে। বুঝিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের আইডল—আইকন রাসূল সা. এর সম্মান আমাদের জীবনের চেয়েও অধিক বেশি।
রবির কিরণ পুবাকাশে মাথাচাড়া দিয় উঁকি দেবার পূর্বেই শুরু হয় আন্দোলন। আন্দোলন চলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সেই আন্দোলনে শরীক হয় কিশোর থেকে বৃদ্ধ সবাই। তাদের মধ্যে ছিল কিশোর শহীদ আরমান রহ.।
শহীদ আরমান সেদিন প্রকৃত নবিপ্রেমের স্বাক্ষর রাখে। বয়স তখন তার চৌদ্দ। নবযৌবনপ্রাপ্ত এক নির্ভীক যুবক। শহীদ আরমানের বসতবাড়ি বর্তমান কিশোরগঞ্জের শহিদি মসজিদের পাশেই ছিল। তার পড়াশোনা স্কুল ছিল আজিমউদ্দিন সরকারি হাইস্কুল। আজিমউদ্দিন সরকারি হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিল সে।
বাল্যকাল থেকেই সে শহিদি মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়তো। তখনকার সময়ে স্কুলে নামাজের জায়গা ছিল না, তাই কয়েকজন সহপাঠীকে সাথে করে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থানের ব্যবস্থা করিয়ে নেয়। যা আজও বক্ষমান। মজার বিষয় হলো, আরমান স্কুলে পড়লেও তার বন্ধুদের অধিকাংশ-ই ছিল জামিয়া ইমদাদিয়ার ছাত্র।
হঠাৎ একদিন শুনে তসলিমা নাসরিন নামি এক নষ্টা-ভ্রষ্টা নাস্তিক লেখিকা প্রিয় নবী সা. ও পবিত্র কালামুল্লাহ নিয়ে কটুক্তি করে। গোস্তাখি করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে। ভুল ধরে কুরআনের।
সে এও বলে কুরআনে নাকি নারীদের অমূল্যায়ন করে আয়াত নাযিল করা হয়েছে। যা কিনা সংশোধন করতে হবে। শুধু তা-ই নয়, আমাদের কলিজা হযরত নবীয়ে আকরাম সা.–কে সে বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন ভাষায় কটুক্তি করেছিল। যা সহ্য হয়নি কাররই। প্রিয় নবীর অবমাননা মেà¦