সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


পাহাড়-পর্বতের সৃষ্টিরহস্য

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।। আবদুল আউওয়াল ।।

পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে উঁচু আর ভারী স্থাপনার নাম পর্বত। তারই অনুজ পাহাড়। ঢেউ খেলানো সারিবদ্ধ পর্বতের মিছিল কোথাও আকাশের নীলে মিশে আছে। কোথাও লালিমার কোলে হারিয়েছে । সাদা, কালো, ঘোলাটে কতো রঙয়ের পাহাড়, কতো আকৃতির পর্বত।

এ সব প্রভুর বিস্ময়কর সৃষ্টি। অপার শক্তিমত্তার মহানিদর্শন। প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আধার। ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক। তাই কুরআনুল কারিম পাহাড়-পর্বত নিয়ে গবেষণা করতে মানুষকে উৎসাহিত করেছে।

ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং(তারা কি দৃষ্টিপাত করেনা)পর্বতমালার প্রতি কীভাবে তা দৃঢ়ভাবে স্থাপন করা হয়েছে?’ (সুরা গাশিয়া:১৯) তাই এই নিবন্ধে ‘পাহাড়-পর্বতের সৃষ্টিরহস্য’ নিয়ে কিঞ্চিত আলোকপাতের প্রয়াস চালানো হয়েছে-

পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষাকারী
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে উপবৃত্তাকার পথে অবিরাম ঘুরছে। যাকে বলে বার্ষিকগতি। এই ঘূর্ণনের বেগ বিজ্ঞানীদের হিসাব মতে ঘন্টায় ১০,৭০০ কি:মি: প্রায়। আবার পৃথিবী নিজ অক্ষেও ঘুরছে অবিরত। যাকে বলে আহ্নিকগতি। তার বেগ ঘন্টায় ১৬৭০ কি:মি: প্রায়।

সুতরাং পাহাড়-পর্বত না থাকলে পৃথিবী ভারসাম্য হারাতো। জলে ভাসা খালি পাত্রের মতো নড়াচড়া করতো। ধ্বংস হতো সবকিছু। সামান্য ভূমিকম্পে তা আঁচ করা যায়। তাই আল্লাহতায়ালা জমিনের ওজন ঠিক রাখতে, নড়াচড়া বন্ধ করতে এতে স্থাপন করলেন ভারী পর্বতমালা। পেরেকের মত গেঁথে দিলেন বড় বড় পাহাড়।

ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি জমিনের ওপর সুদৃঢ় পর্বতমালা সৃষ্টি করেছি, যাতে তাদের নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে...।’ (সুরা আম্বিয়া : ৩১)

সুরা নাবার ৭নং আয়াতে বলা হয়েছে,‘আমি কি পাহাড়গুলোকে পেরেকস্বরূপ সৃষ্টি করিনি?’ এ বিষয়ে রাসুল সা. বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা জমিন সৃষ্টি করলে তা নড়াচড়া শুরু করে। অত:পর এর ওপর পাহাড় স্থাপন করলে স্থিতিশীলতা আসে।’ (তিরমিজি : ৩২৯১)

নদী-নালার উৎপত্তিস্থল
পৃথিবীর প্রধান প্রধান যতো নদী আছে সবগুলোর উৎস প্রায় কোনো পর্বত কিংবা পাহাড়। মিষ্টি পানির স্বচ্ছ ঝরণাধারা পাহাড়েরই অবদান। সমুদ্রের পানি মেঘ হয়ে বর্ষিত হয় পাহাড়ে বরফ হয়ে আটকা পড়ে পর্বতে আর তা হতে গ্রীষ্মের তাপদাহে বরফখন্ড গলে গলে ক্ষয়ে ক্ষয়ে জন্ম নেয় নদ-নদী যা আবহমান কাল ধরে পৃথিবীর সকল প্রাণি আর উদ্ভিদরাজির পিপাসা নিবারণ করে বয়ে চলছে। কখনো কখনো পাহাড়-পর্বতের পাথরখন্ড ফেটেও নদী-নালা উৎপত্তি লাভ করে।

কুরআনে বর্ণিত হয়েছে,‘আর নিশ্চয় পাথরের মধ্যে কিছু এমন আছে, যা থেকে নহর উৎসারিত হয়। আà