আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: ধন-সম্পদ আর সন্তানাদি পার্থিব জীবনের শোভা-সৌন্দর্য, আল্লাহর দেওয়া আমানত। এই আমানত সম্পর্কে মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল; আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। (বুখারি, হাদিস : ৭১৩৮)।
তাই আমাদের উচিত, সন্তানকে নেক সন্তান হিসেবে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করা। নিম্নে সন্তান গড়ার কোরআনি নির্দেশনাগুলো তুলে ধরা হলো—
সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা : সন্তানকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হলে তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে হবে। যাতে সে যেকোনো সমস্যার ব্যাপারে নির্দ্বিধায় মা-বাবার সঙ্গে আলাপ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সন্তানকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে বহু ভুল সিদ্ধান্ত ও বিপদ থেকে রক্ষা করা যায়। যে ইউসুফ (আ.) তাঁর বাবার সঙ্গে স্বপ্নের বিষয়ে আলোচনা করলেন, তিনি তাঁকে ওই স্বপ্নের ব্যাপারে কারো সঙ্গে আলোচনা করতে বারণ করেন। পবিত্র কোরআন ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন ইউসুফ তার পিতাকে বলল, হে আমার পিতা, আমি দেখেছি এগারোটি নক্ষত্র, সূর্য ও চাঁদকে, আমি দেখেছি তাদেরকে আমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায়। ’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৪)।
সন্তানকে সতর্ক করা : সন্তানরা জীবন সম্পর্কে কম অভিজ্ঞ হয়, তাই বাবার উচিত, তাদের কঠিন এই পৃথিবী সম্পর্কে সতর্ক করা, যে পথে বিপদের আশঙ্কা আছে, সে পথ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া। যেমন—ইউসুফ (আ.)-এর বাবা তাঁকে সতর্ক করেছিলেন। ইরশাদ হয়েছে, তার পিতা বললেন, ‘হে আমার পুত্র! তোমার স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের কাছে বর্ণনা কোরো না। যদি করো তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে। শয়তান তো মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। ’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৫)।
সন্তানের ভবিষ্যৎ গঠনে সুপরামর্শ দেওয়া : প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কিছু সম্ভাবনা থাকে, তা বুঝে তাকে সেই সেক্টরে দক্ষ করে তুললে ও উৎসাহ দিলে সে সফল হতে পারে। বাবার উচিত, সন্তানকে সুশিক্ষিত করার পাশাপাশি তার মধ্যে থাকা সম্ভাবনাগুলো সম্পর্কে তাকে উৎসাহ দেওয়া। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘(স্বপ্নে যেমন দেখেছ) এভাবে তোমার প্রতিপালক তোমাকে মনোনীত করবেন, তোমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দেবেন এবং তিনি তাঁর অনুগ্রহ তোমার প্রতি আর ইয়াকুব পরিবারের প্রতি পূর্ণ করবেন, যেভাবে তিনি তা পূর্বে তোমার পিতৃপুরুষ ইবরাহিম ও ইসহাকের প্রতি পূর্ণ করেছিলেন,