সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


এক হিন্দু রাজমিস্ত্রি বানানো ‘চিনি মসজিদ’ ইতিহাসের কথা বলে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবদুল্লাহ তামিম ♦

একজন হিন্দু রাজমিস্ত্রী তৈরি করেছে এ ঐতিহাসিক মসজিদ। আমরা কথা বলছিলাম যে মসজিদ প্রায় দেড়শ বছর আগের পুরানো স্থাপত্যশৈলীর মুসলিম নিদর্শন বহন করে আছে। সৈয়দপুরের বিখ্যাত ‘চিনি মসজিদ’ বা ‘চীনা মসজিদের’।

চিনি মসজিদের সামনের অংশ

নাম শুনে সবার মত আমার মনেও প্রথম এ প্রশ্নটাই এসেছিল। আসলে কি এই মসজিদ চীনাদের করা? নাহ, আসলে মসজিদের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য মসজিদের দেয়ালে চিনামাটির থালার ভগ্নাংশ বা কাচের ভগ্নাংশ বসানো হয় যেন দেয়াল স্পর্শ করলে আপনি চিনির মত দানাদার একটা কিছু স্পর্শ করার অনুভূতি পাবেন।এধরনের স্থাপত্য-লোকে স্থানীয় ভাবে বলা হয়ে থাকে “চিনি করা” বা “চিনি দানার কাজ করা”। আর এ কারণেই এ মসজিদের নাম হয়ে গেছে চিনি মসজিদ প্রকারান্তরে চীনা মসজিদ।

চিনি মসজিদের ছবি
ইতিহাস এর পরীক্ষায় অংশ নেয়া অনেক কঠিন হলেও কোন ঐতিহাসিক স্থান চোখের সামনে দেখা এবং সে বিষয়ে জানা কিন্তু ঠিক তার উলটো বরং সেই ঐতিহাসিক স্থান দেখার পর নিজ থেকেই যেন আগ্রহ জাগে এর পেছনের কথা জানার।

আজ থেকে দেড়শ বছর আগে ১৮৮৩ সালে হাজী বাকের আলী এবং হাজী মুকছুন নামে দুই ব্যক্তি সৈয়দপুর এর ইসলামবাগ এলাকায় ছন ও বাঁশ দিয়ে প্রথম মসজিদটি নির্মাণ করেন। পরে এলাকার লোকেরা মসজিদটি স্থায়ীভাবে নির্মাণের জন্য তহবিল গঠন করে। জনশ্রুতি আছে মসজিদের উন্নয়নের জন্য এলাকাবাসীরা স্বেচ্ছায় তাদের পুরো এক মাসের উপার্জন বা বেতন দান করেছিল।

১৯২০ সালে হাজী হাজি আব্দুল করিমের উদ্যোগে মসজিদটিকে প্রথম পাকা করা হয়। শংকু নামক একজন হিন্দু রাজমিস্ত্রি দৈনিক ১০ আনা মজুরীতে মসজিদটির স্থাপত্যশিল্পে কাজ করেছিলেন।

একজন হিন্দু’র ঘাম দিয়ে তৈরি আজকের এই ঐতিহ্যবাহী চিনি মসজিদ। মসজিদটির স্থপতি হিসেবে মোঃ মখতুল এবং নবী বক্সের নাম প্রচলিত আছে। এই দুইজনের তত্ত্বাবধানে নিজের সবটুকু মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে এ অসাধারণ ডিজাইনকে বাস্তবে রুপ দেন শংকু।

চিনি মসজিদের ইন্টেরিয়র ডিজাইন
হাল আমলের মà