মুফতি সফিউল্লাহ।।
মানুষ সামাজীক জীব। আত্মীয়তা ছাড়া বেঁচে থাকা খুবই কষ্টকর। আত্মার সাথে আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কিত। বৈবাহিক সূত্রে কিংবা জন্মগতভাবে আত্মীয়তার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে।
আত্মীয়তার সম্পর্কের নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা নেই। তা ধরন, কাল, অঞ্চল ও পাত্র ভেদে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। নিদিষ্ট কোন অঞ্চলের সমাজ-সংস্কৃতির সঠিক রীতি যাকে সম্পর্ক রক্ষা-ক্ষুণ্ন করা বলে বিবেচনা করে সেই সমাজে সম্পর্কের বিচার সেই রীতি অনুসারেই হবে।
সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে আত্মীয়-স্বজনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন কারণে অনেক সময় আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়, তবে এসব পেছনে ফেলে যারা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা করে যায় আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর সন্তুষ্ট থাকেন।
ইসলামি বিধানে একজন মুসলমানের জন্য আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা আবশ্যক। শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া সম্পর্ক ছিন্ন করা সম্পূর্ণ হারাম।
বর্তমানে আত্মীয়তার এ সম্পর্ক নিয়ে মানুষ খুবই উদাসীন। সম্পর্ক নষ্ট করাকে কোনো গোনাহই মনে করছে না। অথচ পবিত্র কুরআনে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের অভিসম্পাত ও ভৎসনা করা হয়েছে।
আল্লাহ বলেন-
فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِن تَوَلَّيْتُمْ أَن تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ - أُوْلَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ ‘ক্ষমতা পেলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে কলহ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতি আল্লাহ অভিশাপ দেন। (এমনকি) এরপর তাদের বধির ও দৃষ্টি শক্তিহীন করে দেন।’ (সুরা মুহাম্মাদ : আয়াত ২২-২৩)
স্মরণ রাখতে হবে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম এক কারণ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।' (বুখারি ২৪০৮)
আত্মীয়তার বন্ধন এর শাস্তি শুধু আখেরাতে দেন এমন নয় দুনিয়াতেও আল্লাহ তায়ালা তার শাস্তি দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (ন্যায়পরায়ণ শাসকের বিরুদ্ধে) বিদ্রোহ ও রক্তসম্পৰ্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার মতো মারাত্মক আর কোন পাপ নেই, আল্লাহ তা’আলা যার সাজা পৃথিবীতেও প্রদান করেন এবং আখিরাতের জন্যও অবশিষ্ট রাখেন।(তিরমিযি-২৫১১)
আত্মীয়ত