হাফেয মাওলানা শুআইব মাহদী: মহান রাব্বুল আলামীন দ্বীন শিক্ষাকে প্রত্যেক নর-নারীর উপর ফরজ করে দিয়েছেন। মানুষ সৃষ্টির সেরা, শরীয়তের ভাষায় আশরাফুল মাখলুকাত যার উপাধি অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলুকের খেতাবে ভূষিত এ মানব সম্প্রদায়। যাদের উপর মহান আল্লাহ তা'আলা তাঁর বন্দেগী আবশ্যক করেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ.
অর্থঃ আর আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদাতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। (সূরা যারিয়াত ৫৬)
এই বন্দেগী পালনে মহান রবের পক্ষ থেকে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই আদিষ্ট। আর আমরা জানি, ইবাদাত পূর্ণভাবে আদায়ের জন্য ইলমে দ্বীনের শিক্ষা অপরিহার্য। (যেটুকু না শিখলে ফরজ ইবাদাত পালন করা সম্ভব নয়।) যেহেতু ইবাদাতের ব্যাপারে নারী-পুরুষ উভয়ে আদিষ্ট, সেহেতু বিদ্যার্জনের জন্য এ দুয়ের রয়েছে সমান অশগ্রহণের শরীয়ত সম্মত সুযোগ।
প্রিয় পাঠক। আজ আমরা ইসলামে নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও নারীর দ্বীনি জ্ঞানার্জনের প্রয়োজনীয়তা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে কিঞ্চিৎ আলোকপাতের চেষ্টা করবো। ইনশাআল্লাহ।
ইসলামে নারী শিক্ষার গুরুত্ব:
ইসলাম নারী শিক্ষার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে,এ বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহের বহু স্থানে উল্লেখ হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা
ইরশাদ করছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ...
অর্থঃ হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং আপন পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও (সূরা-তাহরীম-৬)
উক্ত আয়াতে কারীমায় মহান রাব্বুল আলামীন পরিবারবর্গকে (মা-বোন ও সন্তান) কেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর কথা বলেছেন। আর বন্দেগীর জন্য ইলমে দ্বীনের শিক্ষা অপরিহার্য। স্পষ্টতই নারীর দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম । কুরআনও যার ব্যাপারে অভিভাবকদের আদেশ করেছে। অনুরূপভাবে হাদিসের বহু স্থানে নারী শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে-
عن الشفاء بنت عبد الله قالت: دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا عند حفصة فقال لي: ألا تعلمين هذه رقية النملة كما علمتيها الكتابة-
অর্থ: শিফা বিনতে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবীজী সা. আমার কাছে আসলেন, আর আমি তখন হাফসা রা. এর নিকটে ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, তুমি তাকে যেভাবে লিপিবিদ্যা শিখিয়েছো সেভাবে খুঁজলি-পাচড়ার চিকিৎসার পদ্ধতিও কেন শিখিয়ে দি