রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দারুল উলুম দেওবন্দে সমবেত হচ্ছেন পাঁচ হাজার মাদরাসার প্রতিনিধি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান, হেবরনে ঘরছাড়া ৩০০ পরিবার নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা  হজরত শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ৮৮ লাখ টাকা, মিলল স্বর্ণ-বিদেশি মুদ্রা  নৈতিক সমাজ গঠনে মসজিদ-মাদ্রাসার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: হাবিবুর রশিদ  খুতবার মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতায় আফগানিস্তানকে দায়ী করা বিভ্রান্তিকর: তালেবান মুখপাত্র আল-আকসার খতিবকে ধরে নিয়ে যাওয়ার নিন্দা জমিয়তের পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি খেলাফত মজলিসের শতবর্ষী রেসকোর্স মসজিদের বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ পুনর্বহালে দিল্লি হাইকোর্টের ‘না’

তাবলিগ নিয়ে মুফতিয়ে আজম রহ.-এর ফতোয়া

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| মুহাম্মদ উমারা হাবীব ||

বর্তমান তাবলিগ জামাতের সূচনাকালে যেসব উলামায়ে কেরাম সর্বোতভাবে একে সমর্থন সহযোগিতা দিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়েছেন, তাদের শীর্ষস্থানীয় হলেন তখনকার ভারত উপমহাদেশের মুফতিয়ে আজম মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ দেহলবি রহ. (ইন্তেকাল ১৯৫২)। তিনি তাবলিগ জামাতের বিভিন্ন মজলিসে উপস্থিত হয়ে এবং তাবলিগি ইজতেমায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরাসরি উৎসাহ জুগিয়েছেন। ১৯৪১ সালে নুহ অঞ্চলে তাবলিগের প্রথম ইজতেমায় মুফতি কেফায়েতুল্লাহ রহ.ও উপস্থিত ছিলেন। শুরু থেকেই শরিয়তের আলোকে ফতোয়া প্রদানের মাধ্যমে তাবলিগের কাজকে বেগবান করেছেন।

১৩৬৪ হিজরিতে মুফতিয়ে আজম রহ. দুটি ফতোয়া সাধারণ মুসলমানদের তাবলিগ জামাত সাহাবায়ে কেরাম ও পূর্ববর্তী আকাবিরের পথেই চলছে। তার কাছে প্রশ্ন ছিল-

এক. সাহাবায়ে কেরাম দল বানিয়ে মুসলমানদের মধ্যে কালেমা নামাজ শেখাতে বের হতেন অথবা পূর্ববর্তী উলামা কালেমা নামাজ শেখাতে জামাত বানিয়ে একজন আমির নির্ধারণ করে অধার্মিক মুসলমানদের ঘরে যেতেন?

তিনি উত্তর লিখেছেন, ‘সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহুম একা একা এবং কয়েকজন মিলে মিলে এই খেদমত আঞ্জাম দিতেন। তখন এই মেহনত হতো কালেমা নামাজ শেখানোর জন্য অর্থাৎ অমুসলিম কালেমা পড়ে মুসলমান হয়ে নামাজ ইত্যাদি শিখত। কুরআন মাজিদ পড়ত এবং হিফজ করত। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে একা কাউকে অন্য সঙ্গীদের সাথে ইসলামের তাবলিগ এবং ইসলামের বিধিবিধান শিক্ষার জন্য পাঠাতেন। আজকাল দুর্ভাগ্যের ফলে মুসলমানদের বিশুদ্ধ কালেমা শেখাতে হয়। তাদের ধরে নামাজের জন্য মসজিদে নিয়ে আসতে হয়। অমুসলিমদের মধ্যে তাবলিগ করার জন্য যাওয়ার সুযোগই হাতে আসে না। তাবলিগের এই কাজে মুসলমানদের অবস্থা সংশোধন হয়ে গেলে পরে অমুসলিমদের দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাবে।’
দুই. হজরত ইলিয়াস রহ.-এর তাবলিগি কাজের প্রমাণ ইসলামের প্রথম যুগে পাওয়া যায়?

মুফতিয়ে আজম মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ রহ. লিখেছেন, আসলে এই আন্দোলন মৌলিকভাবে ইসলামের বুনিয়াদি বিষয়। কেননা, আল্লাহ তায়ালার পয়গাম তার বান্দাদের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের ঘরে গিয়ে নিজেই পৌঁছানো প্রকৃত তাবলিগ। ইসলামের প্রথম যুগে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজেই এই খেদমত আঞ্জাম দিতেন এবং জীবনের প্রতিপদে এটাকেই সবসময় সামনে রাখতেন। এজন্য তখন কয়েকজন মিলে দল দল বানিয়ে এবং আলাদা কোনো নেজাম তারতিব দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।  সূত্র: কিফায়াতুল মুফতি ৩/ ৭১-৭৩

কেএল/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ