শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান, হেবরনে ঘরছাড়া ৩০০ পরিবার নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা  হজরত শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ৮৮ লাখ টাকা, মিলল স্বর্ণ-বিদেশি মুদ্রা  নৈতিক সমাজ গঠনে মসজিদ-মাদ্রাসার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: হাবিবুর রশিদ  খুতবার মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতায় আফগানিস্তানকে দায়ী করা বিভ্রান্তিকর: তালেবান মুখপাত্র আল-আকসার খতিবকে ধরে নিয়ে যাওয়ার নিন্দা জমিয়তের পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি খেলাফত মজলিসের শতবর্ষী রেসকোর্স মসজিদের বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ পুনর্বহালে দিল্লি হাইকোর্টের ‘না’ শিশু নিপীড়ন ও আইন হাতে নেওয়া কোনোটাই গ্রহণযোগ্য নয়: হেফাজত

খুতবার মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সমাজ থেকে মাদক, ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, জিনা ও অন্যায়-অবিচার দূর করতে জুমার খুতবায় জনসচেতনতামূলক বক্তব্য তুলে ধরতে ইমামদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।  

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সমাজের বিভিন্ন অন্যায় ও অনৈতিকতা দূর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ইমামদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাধারণ মানুষ ইমামদের কথা পরম আস্থার সাথে শোনে ও বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি জুমার খুতবার মাধ্যমে সার্বিক নৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য সকল ইমামদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

সম্মেলনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের আর্থিক সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় নেতাদের পর্যায়ক্রমে সরকারি সম্মানী কাঠামোর আওতায় আনা হবে। 

ইমাম ও আলেম সমাজের ঐতিহাসিক অবদানের কথা উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েও দেশের ইমাম, ওলামা ও পীর-মাশায়েখরা সমর্থন ও সহযোগিতা করেছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ‘আস্থা গণভোট’ (হ্যাঁ-না)-এর নির্বাচনেও আলেম-ওলামারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়া, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ১৯৯৪ সালে বেগম খালেদা জিয়া ২ কোটি টাকার কল্যাণ তহবিল গঠনের যে ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে বলেও সম্মেলনে জানান ধর্মমন্ত্রী।  

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন ধর্মমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে বলেন, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও তার ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে বিবেচিত হয়। 

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে আলেম-ওলামা ও ইমাম সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর শক্তিকে উন্নয়নের কাজে সম্পৃক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হুরায়রার সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল, বিএনপির চেয়ারপারসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান, এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহিল বাকী নদভী।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ