রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ।। ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১২ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে প্রহ্লাদ যোশী ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের আসামে ভয়াবহ বন্যা, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবার পাশে মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল কুবিতে শায়খে চরমোনাই, জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া লন্ডনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শিক্ষা সফর জুলাই অভ্যুত্থানে ইসলামী আন্দোলনই ছিল সক্রিয়: পীর সাহেব চরমোনাই মসজিদে নববীর কুরআন শিক্ষক শায়খ কারিম হাসুনার ইন্তেকাল আয়া সোফিয়ায় পুনরায় নামাজ শুরুর ছয় বছর পূর্তিতে এরদোগানের বার্তা ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মারুফ, সেক্রেটারি শরীয়াতুল্লাহ সাভারে চাঁদা দাবির জেরে পুলিশ-সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি

জমি ভাগ-বাটোয়ারার জেরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, আটক ৩


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেঁটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে হত্যার সময় ব্যবহৃত ধারালো হাঁসুয়া এবং ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। জমির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এসব তথ্য জনান।

আটকরা হলেন—নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগ্নে—সবুজ রানা (২৫) তিনি দুলাভাই আব্দুস সামাদের ছেলে, নিহত হাবিবের দুলাভাই শহিদুল ইসলাম এবং শহিদুলের ছেলে শাহিন মন্ডল।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জনান, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। খবর পাওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম যায় এবং আলামত সংগ্রহ করে। আমরা একটানা নিবিড় তদন্ত করে এই চার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হই। তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম-পরিচয় বলা হচ্ছে না।

তিনি আরও জনান, নমির উদ্দিনের পাঁচ মেয়ে এবং এক ছেলে। এর মধ্যে এক ছেলেকে তিনি ১৩ বিঘা জমি লিখে দেন এবং প্রতি মেয়েকে ১০ কাঠা করে জমি লিখে দেন। এ নিয়ে মেয়েদের এবং জামাইদের মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। ২০ এপ্রিল সবুজ এবং নিহত হাবিব ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে গরু কিনতে যান। গরু কিনতে না পেরে সন্ধ্যার সময় চলে আসেন। তাদের মধ্যে আগে থেকে ক্ষোভ ছিল কীভাবে হাবিবকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়। হাবিব এবং তার বংশধরদেরকে যদি পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বোনেরা জমির মালিক হবে এবং নাতিরা লাভবান হবে।

পুলিশ সুপার জনান, সেদিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তার নানার বাসায় সবুজ যান। সবুজ তার মামা হাবিব, মামি পপি এবং তার নানা মিলে সেদিন রাতে একই সঙ্গে খাবার খান। নিহতের ভাগ্নি সবুজ খাবার খেয়ে বাইরে একটি মাঠে চলে যান। সেখানে দুলাভাই শহিদুল ও তার ছেলে শাহিন ছিল। সেখানে গিয়ে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা ছিল তারা নমিরের কাছ থেকে তার জমির দলিল নিয়ে আসবে এবং হাবিবকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবে। পরিকল্পনা শেষে শাহিন ওই বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। সবুজ তখন তাদেরকে বলে- একটু পরে তারা ঘুমায়ে পড়বে তোমরা তখন চলে আসবে। এরপর রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে শহিদুল, স্বপন (নিহতের চাচাতো ভাই), সবুজ এবং শাহিন মিলে হাবিবুরের ঘরে প্রবেশ করে। শাহিন হাবিবের ঘরে প্রবেশ করে বড় ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে হাবিবকে জবাই করে। এরপর একে একে হাবিবের স্ত্রী এবং তার সন্তানদেরকে হত্যা করেন।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ