বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
১৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে পুলিশের জন্য গাড়ি কিনছে সরকার দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যমন্ত্রী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠলো ইরানের কেশম দ্বীপ আপনি গুলি করলে আমরা কি বসে থাকব: বিএসএফ-কে বিজিবি প্রাথমিকে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা, চারু ও কারুকলা অন্তর্ভুক্ত করছে সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের সীমান্তে প্রতিবাদী সমাবেশ ও শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক ১১ দলের হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু আদ্-দ্বীনের শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট নই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শুক্রবার ঢাকায় আসবেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার

ওলীপুরীর অলৌকিক হজ!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

এহসান সিরাজ

একবার আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী সাহেব অসুস্থ হয়ে অ্যাপোলো হসপিটালের এক ডাক্তারের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন থাকতে হবে বলে তার থেকে পরামর্শ নিয়ে বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারে অবস্থান করছিলেন। তখন হজ মৌসুম চলছিল। আমি একদিন হুজুরের খেদমতে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম-আপনার প্রথম হজের স্মৃতি মনে আছে? কীভাবে করেছিলন?

হুজুর বললেন, খুব ভালোই মনে আছে। এ স্মৃতি ভুলবার নয়!

জিজ্ঞেস করলাম, কেমন?

বললেন, (মনে নেই, সম্ভবত ২০০০ সাল বলেছিলেন) আমার কাছে কিছু টাকা ছিল। আরও কিছু টাকা হলে হজ করা যায়। নিয়ত করলাম বসুন্ধরার মুফতি সাহেব (মুফতি আব্দুর রহমান) হুজুর থেকে কিছু টাকা ধার নেবো। সে হিসেবে এক দিন বসুন্ধরা মাদরাসায় এসে ফকীহুল মিল্লাত মুফতি আব্দুর রহমান সাহেবের কাছে বললাম, আমার কাছে এতো টাকা আছে আপনি কিছু ঋণ দিলে আমি হজে যেতে পারি?

মুফতি সাহেব বললেন, আপনার চিন্তা ভালো, আল্লাহ তায়ালা কবুল করুন। আমি একটা পরামর্শ দিই, তাতে আপনার ঋণ করা লাগবে না। সহজেই হজে যেতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। 

জিজ্ঞেস করলাম কীভাবে? বললেন, আপনি নোয়াখালী আল-আমীন মাদরাসার মোতায়াল্লি সাহেবকে গিয়ে বলবেন, আমি হজ করতে চাই, আপনি ব্যবস্থা করে দিন। আমি বললাম, আমার পক্ষে এটা সম্ভব না। আমি বলতে পারবো না। হুজুর একটু নৈরাশ হলেন। আমি চলে এলাম।

কয়েক দিন পর মুফতি সাহেব হুজুরের সঙ্গে আবার সাক্ষাৎ হলে তিনি জানতে চাইলেন হজের কোনো ব্যবস্থা হয়েছে কি-না?

বললাম, হয়নি। তখন মুফতি সাহেব আবারও বললেন, আপনি নোয়াখালীর সেই লোককে শুধু বলবেন, ‘আমি হজের নিয়ত করেছি। আপনি দোয়া করবেন।’

ওলীপুরী সাহেব আমাকে বললেন, জীবনে আমি দুটো জিনিস পারি না ১. খাওয়া ২. চাওয়া! 

আমি মুফতি সাহেবকে বলে দিলাম, হুজুর এভাবে বলাও আমার পক্ষে সম্ভব না! 

হজের আর কয়েক দিন বাকি। একদিন মুফতি সাহেব হুজুর আমাকে জরুরি খবর দিলেন সাক্ষাৎ করার জন্য!  

আমি গেলাম সাক্ষাৎ করতে। বললেন, দ্রুত আপনার পাসপোর্ট জমা দিন। 

আমি অবাক হয়ে জানতে চাইলাম কীভাবে কী হলো?

বললেন, ‘একটা অবাক কাণ্ড ঘটেছে! আমার পরিচিত এক গ্রুপ অব কোম্পানির মালিক হঠাৎ এসে আমার কাছে জানতে চাইছেন, হুজুর 'ওলিপুরা' কে? তাকে আপনি চেনেন, আমি তাকে হজে পাঠাতে চাই? 

বললাম, ওলীপুরা না তিনি মাওলানা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী। আপনি তাকে কীভাবে চেনেন? 

বললেন, 'আপনি চিনবেন না, মাওলানা নুরুজ্জামান (মনতলার) নামের একজন হুজুর আমার পরিচিত। তাকে হজের পাঠানোর কথা বললে তিনি ওলীপুরী সাহেবের নাম বলেছেন। আমি মাওলানাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ওলীপুরী কে? তিনি বলেছেন, আপনার বসুন্ধরার মুফতি সাহেবকে গিয়ে জিজ্ঞেস করবেন ওলীপুরী কে? তাই আমি আপনার কাছে এলাম!'

এরপর মুফতি সাহেব হুজুরও আমার বিষয়ে তাকে বললেন। তিনি খুশি হয়ে আমার হজের যাবতীয় খরচ বহন করেন এবং দ্রুত হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। অবাক করা বিষয় হচ্ছে আজও তার সঙ্গে আমার দেখা সাক্ষাৎ হয়নি!'

লেখক: আলেম লেখক

এমএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ