আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের বিহার রাজ্যে সরকারি চাকরিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আবারও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (বিপিএসসি) ৭০তম সম্মিলিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার (সিসিই) চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ মুসলিম হলেও সফল প্রার্থীদের মধ্যে তাদের অংশগ্রহণ প্রায় ৪ শতাংশের কাছাকাছি বলে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
গত ২০ জুন বিপিএসসি ৭০তম সিসিই পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে। এতে মহকুমা শাসক (এসডিএম), ডেপুটি পুলিশ সুপার (ডিএসপি), ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও)সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে ২ হাজার ৩৫টি শূন্যপদের বিপরীতে ২ হাজার ২৭ জন প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। এর আগে ৫ হাজার ৪০০-এর বেশি প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। এবারের পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন শ্রদ্ধা পান্ডে।
বিপিএসসি সফল প্রার্থীদের ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক কোনো তালিকা প্রকাশ করে না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত প্রার্থীদের নাম এবং বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, চূড়ান্ত তালিকায় মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা ৯৬ থেকে ১০০ জনের মধ্যে। সেই হিসেবে মোট সফল প্রার্থীদের মধ্যে মুসলিমদের অংশ প্রায় ৪ শতাংশ।
এই হার বিগত কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষার তুলনায়ও কম। ২০২১ সালে প্রকাশিত ৬৪তম বিপিএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১ হাজার ৪৫৪ জন সফল প্রার্থীর মধ্যে ১০১ জন মুসলিম ছিলেন, যা মোট সফল প্রার্থীর প্রায় ৭ শতাংশ। ফলে সর্বশেষ ফলাফলে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব আরও কমে যাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২০১১ সালের ভারতের সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী, বিহারের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ মুসলিম। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোতে তাদের উপস্থিতি জনসংখ্যার অনুপাতে অনেক কম। অতীতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিহার পুলিশে মুসলিম সদস্যের হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং অন্যান্য রাজ্য সিভিল সার্ভিস ক্যাডারেও এই হার ৪ শতাংশের নিচে। যদিও সাম্প্রতিক বিভাগভিত্তিক সরকারি পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের মতে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মুসলিমদের তুলনামূলক কম সাফল্যের পেছনে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে মানসম্মত শিক্ষার সীমিত সুযোগ, ব্যয়বহুল কোচিং সুবিধার অভাব, অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের তুলনামূলক নিম্ন হার উল্লেখযোগ্য।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিহার সরকারের সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তর ২০১০ সাল থেকে পাটনার হজ ভবনে বিনামূল্যে আবাসিক কোচিং কর্মসূচি পরিচালনা করছে। মাওলানা মাজহারুল হক আরবি ও ফারসি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে প্রতি বছর ১৫০ জন বিপিএসসি পরীক্ষার্থী প্রশিক্ষণের সুযোগ পান, যার এক-চতুর্থাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। পাশাপাশি ভাগলপুর ও দরভাঙ্গাসহ কয়েকটি জেলায়ও একই ধরনের কোচিং কেন্দ্র চালু রয়েছে।
আইও/