বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
৫০তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় নিবন্ধনে নতুন করে সুযোগ দিচ্ছে বেফাক দেশের ১১ এলাকায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের সম্ভাবনা ‘দীনকে প্রকৃত রূপে সংরক্ষণের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করছে কওমি মাদরাসা’ মসজিদে নববীর বিস্ময় ২৫০ বৈদ্যুতিক ছাতা কাঁদতে কাঁদতে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা বাবরি মসজিদের উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবীরের জামাতে মোবাইল বেজে উঠলে যা করব?  দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার মুহতামিম সাঈদুর রহমান আজমি আর নেই বৃষ্টির জন্য শুক্রবার আমিরাতে সব মসজিদে ইস্তিসকার নামাজ বেফাকের ৫০তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফি জমার সময় বাড়ল নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বায়তুল মোকাররমের খতিব হননি শায়খ আহমাদুল্লাহ

মসজিদে নববীর বিস্ময় ২৫০ বৈদ্যুতিক ছাতা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মদিনার মসজিদে নববীর খোলা প্রাঙ্গণে সারি সারি বিশাল ছাতা। দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে, পবিত্র স্থানের সৌন্দর্য বাড়াতেই এগুলো স্থাপন করা হয়েছে। বাস্তবে এসব ছাতা আধুনিক প্রকৌশল, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও নান্দনিক স্থাপত্যের সমন্বয়ে তৈরি একটি বড় ছায়া ও শীতলীকরণ ব্যবস্থা। তীব্র রোদ, গরম কিংবা বৃষ্টিতে মুসল্লিদের স্বস্তি দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।

মসজিদে নববীর প্রাঙ্গণে রয়েছে মোট ২৫০টি স্বয়ংক্রিয় ছাতা। প্রতিটি ছাতার বিস্তার প্রায় ২৫ দশমিক ৫ মিটার × ২৫ দশমিক ৫ মিটার এবং ওজন প্রায় ৪০ টন। একটি ছাতা খোলা অবস্থায় ৯০০-এর বেশি মুসল্লিকে ছায়া দিতে পারে। সবগুলো ছাতা একসঙ্গে প্রায় ২ লাখ ২৮ হাজার মুসল্লিকে ছায়া দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।

ছাতাগুলো দুটি ভিন্ন উচ্চতায় স্থাপন করা হয়েছে। ফলে খোলা অবস্থায় একটির ছায়া অন্যটির সঙ্গে সমন্বিত হয়ে প্রাঙ্গণের বড় অংশজুড়ে ছায়া তৈরি করে। বন্ধ অবস্থায় প্রতিটি ছাতার উচ্চতা প্রায় ২১ দশমিক ৭ মিটার।

এসব ছাতা সাধারণ কাপড়ের তৈরি নয়। কাঠামো ও বাহুতে কার্বন-ফাইবারভিত্তিক উপকরণসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় তীব্র রোদ, বাতাস ও বৃষ্টির মতো পরিবেশগত চাপ সহ্য করার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকৌশলগত কাঠামোর পাশাপাশি ছাতাগুলোতে রয়েছে ইসলামি জ্যামিতিক নকশা ও মোজাইক অলংকরণ। উপরের অংশে সোনার প্রলেপ দেওয়া তামার অলংকরণও রয়েছে। ফলে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মসজিদে নববীর ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীরও সামঞ্জস্য রাখা হয়েছে।

ছাতাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়। সাধারণত সূর্যোদয়ের সময় এগুলো খুলে যায় এবং সূর্যাস্তের আগে বন্ধ হয়ে যায়। পুরো ব্যবস্থাটি একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। আবহাওয়া ও মুসল্লিদের প্রয়োজন অনুযায়ী ছাতাগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।

তীব্র গরমে মুসল্লিদের স্বস্তি দিতে ছাতাগুলোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ৪৩৬টি মিস্টিং ফ্যান। প্রতিটি ফ্যানে রয়েছে ১৬টি করে পানির স্প্রে মুখ। এসব ফ্যান পরিশোধিত পানি অতি সূক্ষ্ম কণায় ছড়িয়ে বাতাসের তাপমাত্রা কমাতে সহায়তা করে।

মুসল্লিদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে মিস্টিং ব্যবস্থায় ব্যবহৃত পানিকে পরিশোধন ও জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

ছাতাগুলোর নকশায় বৃষ্টির পানির নিষ্কাশন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে ছাতার ওপর জমা পানি পরিকল্পিতভাবে সরে যেতে পারে এবং প্রাঙ্গণে পানি জমার ঝুঁকি কমে। একই সঙ্গে ছাতাগুলো মুসল্লিদের বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা দেয়।

ছাতাগুলোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ১ হাজারের বেশি আলোকব্যবস্থা। এতে রাতে মসজিদে নববীর প্রাঙ্গণ আলোকিত থাকে এবং ছাতাগুলোর নান্দনিক নকশাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রমজান ও হজের মৌসুমে মসজিদে নববীতে মুসল্লি ও জিয়ারতকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ সময় প্রাঙ্গণে ছায়া ও শীতল পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব ছাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি শীতলীকরণ, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন, আলোকসজ্জা, স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা ও দীর্ঘস্থায়ী কাঠামো—সবকিছুকে এক ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে মসজিদে নববীর ২৫০ বিশাল ছাতা শুধু স্থাপত্যের সৌন্দর্য নয়; পবিত্র মসজিদে আগত মুসল্লিদের স্বস্তি ও সেবায় আধুনিক প্রযুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। তথ্যসূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ