|| ওলিউল্লাহ্ মুহাম্মাদ ||
মানুষ যখন শিখরে পৌঁছে, আলোতে ভাসে, সমাজের সম্মানের শীর্ষে অবস্থান করে, তখন সবাই তাকায় তার বর্তমানের দিকে। কেউ দেখে তার বিলাসবহুল গাড়ি, কেউ মুগ্ধ হয় তার সম্মানিত আসন দেখে, কেউবা হিংসায় জ্বলতে থাকে তার চলাফেরার আভিজাত্যে। কিন্তু খুব কম মানুষই আছে, যারা সেই ব্যক্তির অতীত ঘেঁটে দেখে—কীভাবে তিনি সেই আসনে এসেছেন। আজ যাকে দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হচ্ছি, একসময় সেই তিনিই ছিলেন নিরবে কাঁদা একজন মেহনতি, পরিশ্রমী, দরিদ্র ও ত্যাগী মানুষ।
আমরা যারা ছাত্র, মাদ্রাসার নির্জন কামরায় জীবন গড়ে চলেছি, মাঝেমধ্যে যখন কোনো বড় হুজুর, কোনো সম্মানিত আলেম বা প্রভাবশালী দ্বীনদার ব্যক্তিকে দেখি—তাদের মুখমণ্ডলে জ্ঞান ও নুরের ঝলকানি, চলনে-বলনে আত্মবিশ্বাস, সমাজে সুদৃঢ় অবস্থান—তখন আমাদের মনেও স্বপ্ন জাগে। ভাবি, “আমি যদি একদিন এমন হতে পারতাম!” কিন্তু আমরা ভুলে যাই, এই ‘একদিন’-এর পেছনে রয়েছে শত শত দিন-রাতের নিরব কান্না, অভাব-অনটনের জীবন, পরীক্ষার পর পরীক্ষা, মনের ভেতরে আত্মসংঘাতের ঝড় আর আল্লাহর রাহে নিঃশব্দ আত্মোৎসর্গ।