সাইবার আইন নিয়ে বিভিন্ন অংশীজন ও পেশাজীবীদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ চলছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই আইনে সাংবাদিকদের ভয়ের কোনো কারণ নেই এবং অতীতের আইনের অপব্যবহারের বিষয়টি মাথায় রেখেই সরকার কাজ করছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘এজিও–ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী ও তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের বরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সাইবার আইন নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পাবলিক কনসালটেশন (জনমত গ্রহণ) চলছে। এতে প্রায় সবাই একমত হয়েছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে মানুষকে অপব্যবহার (অ্যাবিউজ) করা হচ্ছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ক্ষতি করা হচ্ছে—তার হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার জন্য একটি আইনের প্রয়োজন রয়েছে। তবে আইনের ভাষা বা কাঠামো কেমন হবে, সে বিষয়ে নানা জায়গা থেকে বিভিন্ন মতামত আসছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে যাওয়া হবে। আইনটি এখনো প্রাথমিক খসড়া বা ‘র স্টেজে’ রয়েছে এবং চূড়ান্ত ড্রাফটিংয়ের পর্যায়ে যায়নি।
সাংবাদিকদের উদ্বেগের বিষয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের যে কনসার্ন রয়েছে, তা বিবেচনায় রাখা হবে এবং তাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রচলিত কোনো আইন বা অতীতে যেসব নিবর্তনমূলক (ড্রাকোনিয়ান) আইন ছিল, সেগুলোর অপব্যবহারের বিষয়টি মাথায় রেখে সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কিংবা ৫৭ ধারার অতীতে যে অপব্যবহার হয়েছিল, তা সরকার বিবেচনায় রাখছে এবং সবার মতামত নিয়েই আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে।
বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিষয়টি পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। যেহেতু এটি সংবিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই বিষয়টি নিয়ে সংবিধান সংস্কার কমিটিও কাজ করছে। বিষয়টি সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগিয়ে নেওয়া হবে।
রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও প্রবাসী শ্রমিকদের সহায়তায় একটি বিশেষ (এক্সক্লুসিভ) আদালত গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশে এসে যাতে আইনি সহায়তার জন্য কোনো ভোগান্তিতে না পড়েন এবং এক জায়গা থেকেই ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’-এর মাধ্যমে সব ধরনের আইনি প্রতিকার পেতে পারেন, সেই লক্ষ্যে সরকার ভাবছে।
আইও/