বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি সিঙ্গাপুরে এমপি হানজালার সঙ্গে বিকেএম নেতাদের সাক্ষাৎ ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি নিউইয়র্কে পীর সাহেব চরমোনাইকে উষ্ণ অভ্যর্থনা এ সপ্তাহে মসজিদুল হারামের খতিব জুহানি, মসজিদে নববীতে হুযাইফি ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় ৫ হাজারের বেশি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত! ইসলামী আন্দোলনের বায়তুল মাল মাসে এক লাখ টাকার কুপন সংগ্রহ বিড়াল কেনা-বেচা ও লালন-পালনের শরয়ি বিধান পরিবারকে আর্থিক সুরক্ষা দিতে গিয়ে সুদের ফাঁদে পড়ছেন না তো? 

ইসরাইলকে সহায়তার দায়ে ৩৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো হামাস

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

দীর্ঘ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজায় নিজেদের কর্তৃত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামী দল হামাস। গত শুক্রবার যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত হামাস বিভিন্ন গোষ্ঠীর ওপর দমন অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩৩ জনকে হত্যা করেছে। এরা হামাসের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিল। 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার জেরে ইসরাইলের হামলায় বিপর্যস্ত হামাস যুদ্ধবিরতির পর থেকে ধীরে ধীরে তাদের সদস্যদের গাজার রাস্তায় ফিরিয়ে আনছে। তবে পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে পালটে যেতে পারে–এমন আশঙ্কায় তারা সতর্কভাবে অগ্রসর হচ্ছে। গাজার দুটি নিরাপত্তা সূত্রেরে উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স এসব তথ্য জানিয়েছে। যুদ্ধ চলাকালীন হামাসের নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেছিল বিভিন্ন গোষ্ঠী। গাজা সিটির এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, যুদ্ধবিরতির পর হামাস বাহিনী ৩৩ জনকে হত্যা করেছে। সংঘর্ষে হামাসেরও ছয়জন কর্মী নিহত হয়েছেন। যদিও নিহত সবার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি বা তারা ইসরাইলের সমর্থন পাচ্ছিল কিনা–তা বলা হয়নি।

এর পাশাপাশি, রাফাহ অঞ্চলে সক্রিয় হামাস-বিরোধী নেতা ইয়াসের আবু শাবাবের বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে। গাজার নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, গাজা সিটির সংঘাতের বাইরেও হামাস আবু শাবাবের ‘ডান হাত’-কে হত্যা করেছে এবং আবু শাবাবকে হত্যার প্রচেষ্টা চলছে। হামাস তাকে ইসরাইলের সহযোগী বলে অভিহিত করে, যদিও তিনি তা অস্বীকার করেন। সোমবার সামাজিকমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশধারী কয়েকজন বন্দুকধারী। তাদের কয়েকজনের মাথায় হামাসের মতো সবুজ ফিতা বাঁধা ছিল। তারা রাস্তার ওপর হাঁটু গেড়ে বসা অন্তত সাতজনকে মেশিনগান দিয়ে গুলি করছে। এটি সোমবার গাজায় ধারণ করা। এ সময় উপস্থিত বেসামরিক দর্শকরা নিহতদের ‘সহযোগী’ বলে উল্লাস করছিল। রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। 

গত মাসেও হামাস-নেতৃত্বাধীন কর্তৃপক্ষ ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল। সোমবার হামাস ইসরাইল থেকে দুই বছর আগে আটক শেষ জীবিত জিম্মিদের মুক্তি দেয়। এ সময় হামাসের কাসাম ব্রিগেডের সামরিক শাখার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল, যা গাজায় একটি স্থায়ী চুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জকে মনে করিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং অন্যান্য অনেক দেশ হামাসকে নিরস্ত্র করার দাবি জানাচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হামাসের গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতা রয়টার্সকে বলেন, গোষ্ঠীটি কোনো নিরাপত্তা শূন্যতা সৃষ্টি হতে দেবে না এবং তারা জননিরাপত্তা ও সম্পত্তির দেখভাল করবে। হামাস জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের হাতে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে প্রস্তুত, তবে গাজার ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সমঝোতা হওয়া উচিত। এতে কোনো বিদেশি নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত নয়।

ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক রেহাম ওউদা মনে করেন, হামাসের এই পদক্ষেপগুলোর উদ্দেশ্য হলো ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতা করা গোষ্ঠীগুলোকে এবং যারা যুদ্ধকালে নিরাপত্তাহীনতায় অবদান রেখেছিল–তাদের ভয় দেখানো। পাশাপাশি হামাস দেখাতে চাইছে যে, তাদের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নতুন সরকারে থাকা উচিত, যদিও ইসরাইল এটি প্রত্যাখ্যান করবে।

এলএইস/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ