বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


‘জ্ঞান-গরিমায় উঁচু পাহাড় ছিলেন মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভি’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও অল ইন্ডিয়া মুসলিম ইন্টেলেকচুয়াল সোসাইটির (এআইএমআইএস) প্রয়াত সভাপতি মাওলানা ড. সাঈদুর রহমান আজমি নদভির জীবন ও অবদান স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আলেম, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, মাওলানা আজমি নদভি ছিলেন জ্ঞান-গরিমায় এক উঁচু পাহাড়। তাঁর ইন্তেকালে মুসলিম উম্মাহ একজন প্রাজ্ঞ আলেম, নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও দূরদর্শী অভিভাবককে হারিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভারতের লক্ষ্ণৌর দালিগঞ্জে মুমতাজ পিজি কলেজের মাওলানা রাবে হাসান নদভি স্মার্ট সেমিনার হলে এআইএমআইএস আয়োজিত এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার রেক্টর মাওলানা সাইয়্যেদ বিলাল আবদুল হাই হাসানি নদভি। উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে উত্তর প্রদেশের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাফেজ কারি আবদুল কুদ্দুস হাদি, আল-বায়াসুল ইসলামী সাময়িকীর সম্পাদক মাওলানা ড. মুহাম্মদ ফারমান নদভি, উত্তর প্রদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী ড. সাইয়্যেদ আম্মার রিজভিসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা বিলাল হাসানি নদভি বলেন, মাওলানা আজমি নদভির বিদায়ে নদওয়াতুল উলামা, আল-বায়াসুল ইসলামী ও ইন্টিগ্রাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাঁর প্রভাব শুধু এসব প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তাঁর জ্ঞান, নিষ্ঠা ও কর্ম বহু প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও আলেমকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি ছিলেন নদওয়ার শিক্ষা-আন্দোলনের প্রাণশক্তি ও আদর্শের অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি।

মাওলানা ড. মুহাম্মদ ফারমান নদভি প্রয়াত আলেমের পারিবারিক ঐতিহ্য, জ্ঞানচর্চা, লেখালেখি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গঠনে অবদানের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ‘আল-বায়াসুল ইসলামী’ সাময়িকীর প্রতিষ্ঠা ও বিকাশ এবং নদওয়াতুল উলামা ও ইন্টিগ্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন তিনি।

মাওলানা আজমি নদভির ছেলে ও খাজা মইনুদ্দিন চিশতি ভাষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. আতা-উর-রহমান আজমি বাবার নীতিনিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ববোধের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, তাঁর বাবা সন্তানদেরও প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে চলতে বলতেন। নিজের প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সন্তানদের ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার সুযোগও দিতে চাননি।

প্রয়াত আলেমের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের সম্পত্তি নয়; এগুলো উম্মাহর আমানত। সমাজের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজের সেবাতেই নিবেদিত থাকা উচিত। সভায় কেন্দ্রীয় শিয়া চাঁদ কমিটির সভাপতি মাওলানা সাইফ আব্বাস নাকভি এ নীতির প্রশংসা করে একে প্রাতিষ্ঠানিক সততা ও আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন।

মাওলানা আজমি নদভির জামাতা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাওলানা আবদুল্লাহ মাখদুমি নদভি তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। অন্যদিকে এআইএমআইএসের সাধারণ সম্পাদক ড. আম্মার আনিস নাগরামি বলেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে প্রয়াত আলেমের সম্পর্ক সাত দশকেরও বেশি সময়ের, যা পাঁচ প্রজন্ম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তাঁর কাছে মাওলানা আজমি নদভি ছিলেন জ্ঞান ও দিকনির্দেশনার পাশাপাশি স্নেহ ও ভালোবাসারও আশ্রয়।

জমিয়তে উলামায়ে উত্তর প্রদেশের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাফেজ কারি আবদুল কুদ্দুস হাদি বলেন, বিশিষ্ট আলেমদের স্মরণ শুধু শোক প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়; তাঁদের শিক্ষা ও আদর্শ সংরক্ষণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

এআইএমআইএসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রয়াত আলেমের জীবন ও অবদান নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা আয়োজন করা হচ্ছে। শিগগিরই তাঁর জীবন, জ্ঞানচর্চা ও বহুমুখী অবদান নিয়ে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় উত্তর প্রদেশের সাবেক মন্ত্রী মুঈদ সিদ্দিকি, লক্ষ্ণৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক মুশির হুসাইন সিদ্দিকি, ইসলামিক সেন্টার অব ইন্ডিয়ার মুখপাত্র মাওলানা সুফিয়ান নিজামি, জামায়াতে ইসলামি লক্ষ্ণৌর নাজিম ড. আমজাদ সাঈদ, কংগ্রেস নেতা আরশাদ আজমি ও আমির হায়দারসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। ইন্টিগ্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য অধ্যাপক সাইয়্যেদ ওয়াসিম আখতারসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির শোকবার্তাও পাঠ করা হয়।

সভা শেষে বক্তারা মাওলানা আজমি নদভির জ্ঞান, শিক্ষা, সততা, মানবিকতা ও উম্মাহর কল্যাণে নিবেদিত জীবনের আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ