শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৭ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত ১১ এপ্রিল ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি ইসলামী আন্দোলনের ‘গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’  ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকা মার্কিন কংগ্রেসে জোরালো হচ্ছে ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি দৌলতদিয়ায় বাসডুবিতে নিহত ২৬ জনের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে: মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র ভারতের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ

বিকৃত নামে ডাকা: মজা নাকি মারাত্মক গুনাহ?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

প্রশ্ন:

বর্তমানে একটি দুঃখজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—মানুষ একে অপরকে বিকৃত নামে ডাকছে, বিশেষ করে যখন কারো মতাদর্শ বা চিন্তাধারা ভিন্ন হয়। কেউ ভিন্নভাবে চিন্তা করলেই তাকে বিদ্রূপ করে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বা বিকৃত নামে অপমান করার প্রবণতা বাড়ছে। ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের আচরণ কেমন?

এম মাআয।

উত্তর:

ইসলামের দৃষ্টিতে কাউকে বিকৃত নামে ডাকা একটি গুনাহের কাজ। এটি মজা বা দুষ্টুমির ছলেও বৈধ নয়। কারও ব্যক্তিত্ব ও সম্মানে আঘাত করে এমন কোনো আচরণ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন:

 یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا یَسۡخَرۡ قَوۡمٌ مِّنۡ قَوۡمٍ عَسٰۤی اَنۡ یَّكُوۡنُوۡا خَیۡرًا مِّنۡهُمۡ وَ لَا نِسَآءٌ مِّنۡ نِّسَآءٍ عَسٰۤی اَنۡ یَّكُنَّ خَیۡرًا مِّنۡهُنَّ ۚ وَ لَا تَلۡمِزُوۡۤا اَنۡفُسَكُمۡ وَ لَا تَنَابَزُوۡا بِالۡاَلۡقَابِ ؕ بِئۡسَ الِاسۡمُ الۡفُسُوۡقُ بَعۡدَ الۡاِیۡمَانِ ۚ وَ مَنۡ لَّمۡ یَتُبۡ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الظّٰلِمُوۡنَ ﴿۱۱﴾

"তোমরা একে অপরকে অপবাদসূচক নামে ডেকো না। ইমান আনার পর মন্দ নামে পরিচিত হওয়া গর্হিত কাজ।" সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১১

বিশিষ্ট তাফসিরবিদ ইমাম তাবারি (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন,

“বিকৃত নামে ডাকা মুমিনের জন্য জঘন্য কাজ, তা সে মজা করেই করুক বা অপমানের উদ্দেশ্যেই করুক।”

(তাফসিরে তাবরি, খণ্ড: ২২, পৃষ্ঠা: ৩০২)

যদি কেউ পূর্বে এমন গুনাহ করে থাকে, তবে তার উচিত—ক্ষমা চাওয়া ও সংশোধন হওয়া। কেননা, এটি একজন মুসলিম ভাইয়ের সম্মানহানির শামিল।

ইসলামী শিক্ষার আলোকে সমাজে সম্মান ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার জন্য এই ধরনের ভাষা ও আচরণ থেকে দূরে থাকা ফরজ-সদৃশ দায়িত্ব।

আল্লাহ তাআলা আমাদের জবান ও আচরণ হেফাজতের তাওফিক দিন। আমিন।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ