শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৭ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত ১১ এপ্রিল ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি ইসলামী আন্দোলনের ‘গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’  ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকা মার্কিন কংগ্রেসে জোরালো হচ্ছে ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি দৌলতদিয়ায় বাসডুবিতে নিহত ২৬ জনের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে: মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র ভারতের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ

ইসলামের ভোটবাক্স একটাই—হাতপাখা: পীর সাহেব চরমোনাই 

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

হাতপাখার প্রার্থী বিজয়ী হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে বলে মনে করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম। এ সময় তিনি হাতপাখাকে একমাত্র ইসলামের বাক্স হিসেবে অভিহিত করেন।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা পাড়ায় ঢাকা-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিমের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাউল করিম এসব বলেন।

মুফতি রেজাউল করীম বলেন, সম্প্রতি বিএনপির এক নেতা ফোন করে দরজা খোলা থাকার ইঙ্গিত দিলেও ক্ষমতার মোহে ইসলামী আন্দোলন সেই পথে যায়নি। মন্ত্রী বা এমপি হওয়ার জন্য নয়, দেশের কল্যাণে ঐক্য গড়তেই আমরা রাজনীতি করি। তিনি বলেন, ইসলামের ভোটবাক্স একটাই—হাতপাখা। জুলাই আন্দোলনে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা গুলির মুখে সামনে দাঁড়িয়েছে।

এক বক্সে ইসলামের ভোটের জন্য জোট গঠন করা হলেও আমাদের ধোঁকা দেওয়া হয়েছে দাবি করে চরমোনাই পীর বলেন, যারা বিশ্বস্ত বন্ধুদের সঙ্গেও প্রতারণা করে, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। ইসলামী আন্দোলন মানুষের কল্যাণ ও ইসলামের জন্য প্রতিষ্ঠিত—এ কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিনিধি সংসদে যেতে পারেননি।

বক্তব্য শেষে দলের প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিমের হাতে হাতপাখা প্রতীক তুলে দেন এবং তরুণ ভোটারদের কাছে হাতপাখার পক্ষে ভোট চান চরমোনাই পীর।

সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, নির্বাচনে জোট নিয়ে যখন কথাবার্তা হয় তখন জামায়াতকে বুঝাতে পারি নাই যাত্রাবাড়ী আমাদের জনপ্রিয়তা। আমরা ১২ তারিখ দেখবো আমাদের কত শতাংশ ভোট পাই। তিনি বলেন, মুসলমানদের এক বিন্দু রক্ত থাকাত ভারতের আধিপত্য বাস্তবায়ন করতে দেবো না। এখানে শরিয়া বাস্তবায়ন করা হবে ইনশাআল্লাহ।

আইম্মা পরিষদের মহাসচিব রেজাউল করীম আবরার বলেন, হাজী ইব্রাহিম নীরব বিপ্লবে জয়ী হবেন। চরমোনাই পীর সাহেবের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, শরিয়া ও ইসলামের আলোকে দেশ গড়া হবে; ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলা হবে। ক্ষমতার কাছে শরিয়া বিক্রি করা হবে না বলেও তিনি দাবি করেন।

ঢাকা-৫ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন বলেন, সংসদে গিয়ে শরিয়াহ আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দেলাওয়ার হোসেন সাকি বলেন, বাংলাদেশ নানা বিভাজনে জর্জরিত; শ্রমিক-মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফেরাতে বিদ্যমান তন্ত্রগুলো ব্যর্থ হয়েছে। সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ বা ধর্মনিরপেক্ষতা নয়—আমরা চাই ইসলামী শাসনতন্ত্র—বলেন তিনি।

কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক লোকমান হোসেন জাফরী বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সবাই আজ এক হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ১২ তারিখের ভোটে যাত্রাবাড়ীতে ইসলামী আন্দোলনের জনপ্রিয়তা কতটা—তা প্রমাণ হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি এম এ এইচ মোস্তফা বলেন, ৫৪ বছরের নানা শাসনব্যবস্থা দেখেও মানুষ শান্তি পায়নি। ইসলাম ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়—এমন মন্তব্য করে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি হাতপাখা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন বলেন, হাজী ইব্রাহিমকে হাতপাখা মার্কায় বিজয়ী করে ঘরে ফিরবো।

সভাপতির বক্তব্যে প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী-কদমতলীর মানুষের ভাগ্য বদলায়নি। স্বাস্থ্যসেবা, গ্যাস ও রাস্তা-ঘাটসহ নিত্য সমস্যার সমাধান হয়নি। আমরা নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজি থাকবে না, দুর্নীতি কমবে, মানুষ নিরাপদ থাকবে—এমন আশ্বাস দেন তিনি।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ