সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ।। ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ৬ সফর ১৪৪৮


‘জমিয়ত নিরেট রাজনৈতিক দল নয়, মূল কাজ ইসলাম সংরক্ষণ’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জমিয়তের আদর্শিক কোনো ঐক্য সম্ভব নয়। অন্যদিকে বিএনপির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল কেবল নির্বাচনি সমঝোতা, কোনো রাজনৈতিক জোট নয়। এছাড়া জমিয়ত শুধুই রাজনৈতিক দল নয়, এর মূল কাজ ইসলাম সংরক্ষণ বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি অনলাইন নিউজপোর্টাল এশিয়া পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের রাজনীতি, ইসলামপন্থি দলগুলোর ঐক্য, জামায়াত ও বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক, ইসলামি রাজনীতির লক্ষ্য এবং জমিয়তের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইসলামি আদর্শ, কোরআন-হাদিসভিত্তিক শিক্ষা এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা সংরক্ষণে কাজ করে আসছে। তাদের রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জন নয়; বরং রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের মধ্যে ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা। তিনি বলেন, আমরা নিরেট রাজনৈতিক দল নই। আমাদের প্রধান দায়িত্ব ইসলামকে সংরক্ষণ ও লালন করা। রাজনীতি আমাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং একটি মাধ্যম।

ইসলামি বিপ্লব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক স্লোগান বা রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যমে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। মানুষের আকিদা, চরিত্র, ইবাদত ও জীবনাচরণ ইসলামের আলোকে পরিবর্তিত হওয়ার পরই প্রকৃত ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করে জমিয়ত সভাপতি বলেন, দলটির আদর্শের সঙ্গে জমিয়তের মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে। তাঁর দাবি, জামায়াতের রাজনৈতিক দর্শন কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াসভিত্তিক আহলে সুন্নাতের ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে আদর্শিক ঐক্যের কোনো সুযোগ নেই। তাদের ইসলামি রাষ্ট্রের ধারণার সঙ্গেও আমরা একমত নই।

১১ দলীয় জোটে যোগ না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই জোটে ইসলামভিত্তিক কর্মসূচি ছিল না। তাই জমিয়ত সেখানে যোগ দেয়নি। তাঁর ভাষায়, জামায়াতসহ ওই জোটের দলগুলোর কর্মসূচিতে ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই।

বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, জমিয়তের সঙ্গে বিএনপির কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক জোট হয়নি। কেবল জাতীয় নির্বাচনে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে তারা একসঙ্গে কাজ করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় বিএনপি সমঝোতার প্রতি আন্তরিক ছিল না। জমিয়তের সম্ভাবনাময় আসনগুলোতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের পরও বিএনপি জমিয়তের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক যোগাযোগ বা বৈঠক করেনি। তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিল নির্বাচনি সমঝোতা পর্যন্তই। তারা আমাদের জোটসঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করেনি।

জমিয়ত সভাপতি বলেন, জামায়াতকে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যেই তারা বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছেন। তাঁর দাবি, কওমি অঙ্গন, হেফাজত ও তাবলিগ-সংশ্লিষ্ট মানুষের ভোট বিএনপির পক্ষে যাওয়ার পেছনে জমিয়তের ভূমিকা ছিল।

বর্তমান সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার কোনো ভালো উদ্যোগ নিলে জমিয়ত তা সমর্থন করবে। তবে ইসলামবিরোধী বা জনস্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নিলে প্রয়োজনে রাজপথে নেমে আন্দোলনও করবে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার অবসান ঘটিয়ে পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

জমিয়তের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী দিনে দলটি আরও বেশি আসনে বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে ছাত্র জমিয়ত এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ