শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :

পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা জোরদার ও সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধের দাবি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা, সাজেকে সড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটির নেতারা পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতী মানসুর আহমদ সাকী ও সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি রহমতুল্লাহ বিন হাবিব।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

তাঁরা বলেন, গত ২২ অক্টোবর সাজেকের উজো বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের খবর প্রকাশিত হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনজীবন ও অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নেতারা বলেন, কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার ও সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক অবরোধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ও কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরাও। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমিবিরোধ, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত সমস্যাগুলোর ন্যায়সংগত সমাধান জরুরি বলেও মন্তব্য করেন ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতারা। তাঁরা ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তাঁরা বলেন, কোনো দাবি আদায়ের নামে সশস্ত্র তৎপরতা, সহিংসতা কিংবা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সুযোগ নেই।বিবৃতিতে পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সব নাগরিকের জানমাল, চলাচল ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানি বা বৈষম্যের শিকার না হন, সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ