বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭


খোশ গল্প ও রসিকতার ব্যাপারে ইসলাম যা বলে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

smail emoওমর শাহ : একদিন রাসুল সা. তাঁবুর ভেতর অবস্থানকালে জনৈক সাহাবি এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাইলেন। রাসুল সা. তাঁকে ভেতরে প্রবেশ করতে বললেন, কিন্তু তাবুটি ছিল বেশ ছোট। যে কারণে সাহাবি রসিকতা করে বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার পুরো শরীরটাই প্রবেশ করাব, না আংশিক?’ রাসুল সা. বললেন, ‘পুরোটাই।’ (আবু দাউদ) হজরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, একবার এক ব্যক্তি এসে রাসুল সা. এর কাছে একটা বাহনজন্তু চাইলেন। রাসুল [সা.] বললেন, ‘হ্যাঁ, আমরা তোমাকে একটা উটনীর বাচ্চা দেব।’ লোকটি বলল,‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি উটনীর বাচ্চা দিয়ে কী করব?’ রাসুলুল্লাহ [সা.] বললেন, ‘আরে উটেরা সব উটনীদেরই বাচ্চা নয় কি?’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)

উপরের দুটি হাদিসেই রাসুল সা. এর সাহাবাদের সঙ্গে রসিকতার প্রমাণ মেলে। মানবজীবনে আনন্দের অংশ হিসেবে বিনোদন, গল্প, চুটকি, কৌতুক, রসিকতা অনস্বীকার্য। কমবেশি প্রত্যেকেই রসগল্প করে থাকেন। তাই রসগল্পে শুধুমাত্র আত্মীয়-স্বজনের জন্য নয়, তা হতে পারে সবার সঙ্গে। ইসলামেও রসগল্প, কথা বা বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে, তবে তা হতে হবে অবশ্যই সীমার মধ্যে। খেয়াল রাখতে হবে যেন পাপ বা বিশৃঙ্খলার কোনো সম্ভাবনা না থাকে।

ইসলামেও রসগল্প, কথা বা বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে, তবে তা হতে হবে অবশ্যই সীমার মধ্যে। খেয়াল রাখতে হবে যেন পাপ বা বিশৃঙ্খলার কোনো সম্ভাবনা না থাকে।

ছোট-বড় সবার মধ্যেই রসিকতা হতে পারে। সেক্ষেত্রে, ছোটদের রসিকতা যেন বড়দের সঙ্গে আদবের গতি অতিক্রম না করে। আর বড়দের রসিকতায় যেন ছোটদের প্রতি আদর-স্নেহের আবহ থাকে। উদাহরণ স্বরূপ জনৈক সাহাবির ঘটনা উল্লেখ করা যায়। আমাদের রসিকতা অনেক সময় এতোটা লাগামহীন হয় যে হাসতে হাসতে কখনো মিথ্যা কথা বলি, কিংবা কাউকে আহত করি। এসবই কবিরা গুনাহ বা মহাপাপ। এ প্রসঙ্গে রাসুল সা. বলেন, ‘তোমার ভাইয়ের সঙ্গে বাক-বিত-া করো না এবং তার সঙ্গে পরিহাস করো না।’ অনেকে আবার শরীরে আঘাত করেও রসিকতা করেন। এমনটি রসিকতার নামে জুলুম। অহেতুক অন্যকে বিরক্ত করাও রসিকতা হতে পারে না। এমনটি করা কোনো সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে খোসগল্প, রসিকতায় মিথ্যা ও অনৈসলামিক বিষয়াদি পরিহার করার তাওফিক দান করুন।

আওয়ার ইসলাম ২৪ ডটকম / আরআর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ