মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় রাবেতার সঙ্গে কাজ করবে পাকিস্তান দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের

শাড়ি লুঙ্গি নয়, জাকাত হোক স্বনির্ভরতার প্রতীক

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ : জাকাত ইসলামের একটি ফরজ বিধান। সমাজে ধনী-গরিবের মাঝে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি করা ও সমাজকে দারিদ্রতা থেকে মুক্তি দেয়া হলো এর উদ্দেশ্য। ইসলাম একজনের হাতে বিপুল অর্থ-সম্পদ জমা হওয়াকে পছন্দ করে না। ইসলাম চায় ধনী-গরিব সবাই স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করুক। তাই দরিদ্রের প্রতি লক্ষ করে জাকাতের বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে।

জাকাত আদায় করলে আল্লাহপাক সম্পদের মালিকদের ধন-সম্পদ এবং ধন-সম্পদের বরকত বৃদ্ধি করে দেন। একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সা. বলেছেন - ‘সদকা করার কারণে কখনো সম্পদ কমে না।’ দান-খয়রাত করলে সম্পদের পরিমাণ কমলেও সম্পদের বরকত কমে না। আল্লাহপাক এ সম্পদকে তার ভবিষ্যতের জন্য বরকতময় করে দেন এবং তার দান খয়রাতের কারণে তাকে এর চেয়ে উত্তম সম্পত্তি দান করেন।

আমাদের দেশের কিছু বিত্তবান এই বিধান পালন করে আসছেন। কিন্তু জাকাতের এই বিধান দিন দিন তার আসল উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলছে। ইসলামী বিধান হচ্ছে জাকাতের অর্থ দিয়ে দরিদ্র মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর। যাতে ভবিষ্যতে তাকে আর মানুষের দ্বারে দ্বারে যেত না হয়। কিন্তু আজকের বিত্তবান সমাজে দরিদ্রদের অর্থনৈতিকভারে স্বনির্ভরতার কথা আর ভাবছেন না। সবাই ঝুকছেন শুধু শাড়ি-লুঙ্গির দিকে।  রাজধানীর গুলিস্থান, ফুলবাড়িয়া ও ফার্মগেইটসহ নানা স্থানে বেশ কিছু মার্কেটে ব্যানার টানিয়ে বিক্রি হচ্ছে জাকাতের শাড়ি-লুঙ্গি। জাকাতকে কেন্দ্র করে আমাদের অর্থনীতিতে প্রতি বছর হাত বদল হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অথচ এ অর্থ যারা দু’বেলা দু’মোঠ ভাত পাচ্ছেন তাদের কোন উপকারে আসছে না।

ইসলামী শরিয়া ধনীদের উপর জাকাত ফরজ করেছে যেন তাদের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র সমাজের লোকেরা স্বনির্ভর হয়। কিন্তু আমাদের এই শাড়ি-লুঙ্গির সংস্কৃতিতে ধনীদের টাকায় লভবান হচ্ছেন শুধু ধনীরাই। গরিবের কপালে তেমন কোন পরিবর্তন ঘটছে না। এছাড়াও জাকাতের টাকায় শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণের মাধ্যমে আমাদের সমাজের প্রকার বিপর্যয় ঘটছে।

গত বছরে ৭ই জুলাই ময়মনসিংহ পৌরসভা কার্যালয়ের কাছে নূরানী জর্দার মালিক শামীম তালুকদারের জাকাতের শাড়ি-লুঙ্গী  বিতরণকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের সমাগম হয় । এক পর্যায়ে ভিড়ের চাপে পড়ে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নারী ও শিশুসহ মোট ২৭ জনের মৃত্যু হয়। আজ আলেম সমাজের ভাবার সময় হয়েছে, এই ভাবে জাকাত আদায় করলে আদো জাকাত আদায় হবে কিনা?

আমাদের নবী সা. বিভিন্ন হাদিসে মুসলিম জাতিকে জাকাত আদায়ের বিষয়ে সচেতন করেছেন। একটি হাদিসে এসেছে, হযরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- ‘আমরা রাসূল সা.- এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করি নামাজ কায়েম করা, জাকাত আদায় করা এবং প্রত্যেক মুসলমানের কল্যাণ কামনার উপর। অন্য আরো একটি হাদিসে এসেছে, হযরত আবু সায়ীদ রা. বর্ণনা করেন, ‘একদিন রাসূলুল্লাহ সা.আমাদেরকে নসিহত করছিলেন। তিন বার শপথ করে তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে, রমজানের রোজা রাখবে, জাকাত প্রদান করবে এবং সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকবে আল্লাহপাক তার জন্য অবশ্যই বেহেশতের দরজা খুলে দিয়ে বলবেন, ‘তোমরা নিরাপদে তাতে প্রবেশ কর’। -নাসায়ী

ইসলামে অর্থনৈতিকভাবে দুইটি বিষয় আমাদের উপর ওয়াজিব করা হয়েছে। ১. সাদাকাতুল ফিতির ২. জাকাত। আমরা যদি নবী সা. এর এই দুই বিষয়ের হাদিস নিয়ে আলোচনা-পর্যলোচনা করি তাহলে আমরা দেখতে পাব এই দুইটা বিষয়ের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ আলাদা।  ফিতরা আদায় করি, যেন সমাজের সবাই ঈদের আনোন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারি এই জন্য। কিন্তু জাকাতের উদ্দেশ্য কখনো ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা নয়। জাকাতের উদ্দেশ্য হলো সমাজের দরিদ্র ও অসহায় লোকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা। আমাদের সমাজে শাড়ি-লুঙ্গি দেয়ার যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। এই সংস্কৃতি যদি চলতে থাকে তাহলে প্রকৃত জাকাত আদায়ের ব্যবস্থার কোন অস্তিত্ব আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

সুতরাং সমাজের বৃত্তবানদের  প্রতি আহ্বান হচ্ছে, নিজেদের সুনাম ও সুখ্যাতি বৃদ্ধির জন্য নয়, জাকাত প্রদান করুণ ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী তাহলেই সমাজের ও দেশের কল্যাণ হবে।

আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর/ওএস


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ