বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :

প্রতিহতের ঘোষণা দিলেন এরদোয়ান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

istambul5

আওয়ার ইসলাম: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিব এরদোগান বলেছেন, দেশটির সংসদ চাইলে তিনি আবারো মৃত্যুদণ্ডের বিধান ফিরিয়ে আনবেন।

ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত লাখ লাখ মানুষের এক সমাবেশে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন। দেশটিতে গতমাসে যে ব্যর্থ-অভ্যুত্থান-চেষ্টা হয় এর প্রতিবাদে এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়। এরদোগান যখন বক্তৃতা করছিলেন তখন সমবেত মানুষ জাতীয় পতাকা নেড়ে তাকে সম্ভাষণ জানায়।

সমাবেশ উপলক্ষে রবিবার সকাল থেকেই ইস্তাম্বুলের ইয়েনিকাপি এলাকায় সমবেত হতে থাকে জনতা। তাদের হাতে ছিল তুরস্কের জাতীয় পতাকা। জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ওই সমাবেশে কোনো দল বা গোষ্ঠীর পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন বহন করতে দেয়নি নিরাপত্তা বাহিনী। দলমত ও ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষ সব শ্রেণী-পেশার মানুষ যোগ দেয় সমাবেশে।

সমাবেশে উপস্থিতি ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ও প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। আরো উপস্থিত ছিলেন, প্রধান বিরোধী দল সিএইচপির প্রধান কামাল কিলিচদারওগলু ও ন্যাশনাল মুভমেন্ট পার্টির প্রধান ডেভলেত বাহচেলি।

তুরস্কের ঐতিহাসিক এ সমাবেশে এরদোয়ানের সমর্থকরা ছাড়াও ধর্মীয় নেতা এবং দেশটির অন্তত তিনটি বিরোধী দলের সমর্থকরা যোগ দিয়েছেন।

তুরস্কের বিভিন্ন অঙ্গনের বেশ কয়েকজন জাতীয় তারকাও এ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে ৩৫ লাখ মানুষ যোগ দেয় বলে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে। এরদোগান সারা দেশে বড় পর্দার মাধ্যমে এ সমাবেশ দেখানোর কথা আগেই ঘোষণা করেন।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ‘গণতন্ত্র ও শহীদ’ শীর্ষক এ বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তৃতা দেয়ার জন্য এরদোগান বিরোধী নেতাকে আমন্ত্রণ জানান। তবে কুর্দিপন্থী এইচডিপি পার্টিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে এরদোয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ইসলামিক বোদ্ধা ফেতুল্লাহ গুলেনসহ তার সকল সমর্থকদের তিনি তুরস্ক থেকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন।

গত মাসের ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার জন্য গুলেনকে দায়ী মনে মনে করে টার্কিশ সরকার।

তিনি বলেন ইউরোপে বা ইউরোপীয় কাউন্সিলে মৃত্যুদণ্ড নেই। কিন্তু আমেরিকায় এটি আছে। জাপান, চীন সহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে এটি আছে। সুতরাং তুরস্কের মানুষও এটি পেতে পারে।

‘এছাড়া আগেও ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত এটি আমাদের ছিল। আর সার্বভৌমত্বের মালিক জনগণ।ফলে, জনগণ যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে রাজনৈতিক দল সেই সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়ন করবে”।

তুরস্কের অভ্যুত্থান চেষ্টার পর ফতুল্লা গুলেনের হাজার হাজার সমর্থক চাকরি হারিয়েছেন এবং কারাবরণ করেছেন।

১৫ জুলাইয়ের ওই ব্যর্থ অভ্যুত্থানে প্রায় ২৭০ জন নিহত হয়েছিলো।

এরপর থেকেই দেশটির বিভিন্ন শহরে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ জনতা গণতন্ত্র রক্ষা অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। রবিবারের এ সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হলো প্রায় ২০ দিনের এ কর্মসূচির।

তুরস্কের টালমাটাল এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি টার্কিশ প্রেসিডেন্টের কট্টর অবস্থান-কে অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনা করে আসছে পশ্চিমা বিশ্ব ।

আরো পড়ুন: এরদোগানের মহাসমাবেশ; ইস্তাম্বুলে লাখো মানুষ

সূত্র: বিবিসি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ