মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

মসজিদ নয় যেন মন্দির! নামাজ রেখে মোমবাতি জ্বালাতেই আসে মানুষ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

fatiksari_mosqueএম ওমর ফারুক আজাদ, ফটিকছড়ি থেকে

ফটিকছড়ি থানার গায়েবী জামে মসজিদ। মান্নত কিংবা আরোগ্যলাভসহ বিভন্ন নিয়তে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে হিন্দুয়ানি রীতিতে মোমবাতি প্রজ্জলনের প্রথা। মসজিদের বাইরে এক কোণে ছোট্ট ঘরাকৃতির মোমবাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন মসজিদ পরিচালনা কমিটি। দেখলে মনে হবে মন্দির কিংবা কোনো ভণ্ডপীরের মাজার এটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এখানে রোগ থেকে আরোগ্য লাভ, বালা মুসিবত থেকে মুক্তি কিংবা অপরের ক্ষতিসাধন ইত্যাদি নিয়তে মসজিদে মোমবাতি প্রজ্জলনের প্রথা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। নামাজের চেয়ে মানুষ মোমবাতি জ্বালাতেই ছুটে আসেন এখানে। যারা মোমবাতি জ্বালাতে আসছেন এক ওয়াক্ত নামাজও পড়ছেন না।

গতকাল মসজিদটিতে মাগরিবের নামাজ আদায় করে বের হওয়ার পর দেখা গেল একজন যুবক নির্ধারিত স্থানে মোমবাতি জ্বালাচ্ছেন। নাম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তিনি ফটিকছড়ি  উপজেলাধীন পাইন্দং ইউনিয়নের অধিবাসী।সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি মোমবাতি জ্বালানোর কারণ হিসেবে বলেন, তার শিশু সন্তান এক কঠিন রোগে আক্রান্ত। স্থানীয় এক কবিরাজ থেকে ঝাড় ফুকের চিকিৎসা নিলে কবিরাজ আরোগ্যলাভের নিয়তে থানা মসজিদে মোমবাতি প্রজ্জলনের কথা বলেন।

এ ব্যাপারে মসজিদের খতিব ও চট্টগ্রাম আল আফকার মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা জাকারিয়া হাসনাবাদী বলেন, ‘মসজিদটিতে এরকম কাণ্ড হয় জানি। এক সময় মসজিদে বিদ্যুত ছিল না। তখন মসজিদে মোমবাতির প্রয়োজন হতো এবং তাতে সাওয়াবও ছিলো কিন্তু এখন তার আর প্রয়োজন নাই তাই মোমবাতি প্রজ্জলন অহেতুক ও শরিয়ত পরিপন্থী গর্হিত কাজ।’

কিন্তু কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মসজিদের বাইরে মোমবাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা কেন করে দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক  মুসল্লি মসজিদে মোমবাতি জ্বালিয়ে চলে যান এতে অগ্নিকান্ডের ভয় থেকে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একবার মোমবাতি থেকে আগুন ধরে কিছু কুরআনও পুড়েছিল।’

ইসলাম ও ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক এমন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে খতিব হিসেবে তার ভুমিকা কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কয়েক জুমায় আলোচনা করেছি। সামনেও করবো ইনশা আল্লাহ্।’

বিষয়টি নিয়ে কি উদ্যোগ নিয়েছেন ফটিকছড়ি থানা কর্তৃপক্ষ জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  আবু ইউসুফ মিয়া বলেন, ‘মসজিদের বাইরে বিজ্ঞপ্তি লাগানো হয়েছে কেউ যেনো দিনের বেলায় মোমবাতি না জ্বালায়। আর ব্যাপারটি যার যার বিশ্বাসের। এতে আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। তবে এ ব্যাপারে সচেতনতার লক্ষ্যে কুরআন-হাদিসের আলোকে আলেমগণ আলোচনা রাখলে কুপ্রথাটি দূর হবে।

আরআর

 ourislam_boxad


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ