আমিনুল ইসলাম হুসাইনী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরে রবিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দির ভাঙচুরে হাত নেই বলে জানিয়েছেন প্রতিবাদকারী ইসলামী দুই দল হেফাজতে ইসলাম ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের নেতা কর্মীগণ।
গত শনিবার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ দাস (৩০) নামের এক যুবক পবিত্র কাবা শরীফ অবমাননা করে আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট করে। এতে এলাকাবাসির মধ্যে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
আপত্তিকর ওই ছবি পোষ্ট করার প্রতিবাদে এবং রসরাজ দাসের ফাঁসির দাবিতে গতকাল রবিবার নাসিরনগর উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও হেফাজত ইসলামের উদ্যোগে পৃথক পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এতে প্রায় কয়েক হাজার লোকের অংশগ্রহণে উভয় দলের পৃথক পৃথক ব্যানারের মিছিল দু'টি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মিছিল শেষে সমাবেশের দুই দলের বক্তারাই কাবা শরীফ অবমাননাকারী কুলাঙ্গার রসরাজের ফাঁসির দাবি জানান।
স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা জানান, রবিবার দুপুরে অজ্ঞাত কিছু লোক তাদের উপর তাণ্ডব চালিয়ে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষকে আহত করেছে। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হামলার সময় মন্দিরের মূর্তি ভাঙচুর, বাড়িঘর ভাঙচুর ও হিন্দুপাড়ার নারী-পুরুষদের বেধড়ক পেটানো হয়।
মহাকাল পাড়ার গৌর মন্দিরের পুরোহিত নরেন্দ্র প্রভু জানান, আকস্মিকভাবে একদল যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে মন্দিরে ভাঙচুর শুরু করে। পরে তারা মূর্তিতে আঘাত করে ও লুটপাট চালায়। এ সময় তাঁকেও মারধর করা হয়।
একই কায়দায় সদরের পশ্চিম পাড়ার জগন্নাথ মন্দির, নমশূদ্র পাড়ার কালীবাড়ি মন্দির, মহাকাল পাড়ার শিবমন্দির, দুর্গামন্দির, শীলপাড়ার লোকনাথ মন্দির, দত্তপাড়ার দত্তবাড়ি মন্দির, সূত্রধর পাড়ার কালী মন্দিরসহ এসব পাড়ার দুই শতাধিক বসত ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে দাবি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের।
নাসিরনগর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক খৈলকদ পোদ্দার অভিযোগ করে বলেন, অন্তত দুই শতাধিক হিন্দু বাড়িঘর ও ১৫টি মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই সমাবেশে যোগ দেয়া লোকজনই এই হামলা চালিয়েছে। তবে তাদের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছà§