মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
মতপার্থক্য থাকতেই পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়: প্রধানমন্ত্রী বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার বৈদ্যুতিক বোর্ডে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম–কক্সবাজারে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে আমিরে মজলিসের ত্রাণ বিতরণ ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় রাবেতার সঙ্গে কাজ করবে পাকিস্তান দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ

বাড়িঘর ও মন্দির ভাংচুরে আহলে সুন্নাত ও হেফাজতের হাত নেই

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

b-baria5আমিনুল ইসলাম হুসাইনী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরে রবিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দির ভাঙচুরে হাত নেই বলে জানিয়েছেন প্রতিবাদকারী ইসলামী দুই দল হেফাজতে ইসলাম ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের নেতা কর্মীগণ।

গত শনিবার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ দাস (৩০) নামের এক যুবক পবিত্র কাবা শরীফ অবমাননা করে আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট করে। এতে এলাকাবাসির মধ্যে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

আপত্তিকর ওই ছবি পোষ্ট করার প্রতিবাদে এবং রসরাজ দাসের ফাঁসির দাবিতে গতকাল রবিবার নাসিরনগর উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও হেফাজত ইসলামের উদ্যোগে পৃথক পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এতে প্রায় কয়েক হাজার লোকের অংশগ্রহণে উভয় দলের পৃথক পৃথক ব্যানারের মিছিল দু'টি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মিছিল শেষে সমাবেশের দুই দলের বক্তারাই কাবা শরীফ অবমাননাকারী কুলাঙ্গার রসরাজের ফাঁসির দাবি জানান।

স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা জানান, রবিবার দুপুরে অজ্ঞাত কিছু লোক তাদের উপর তাণ্ডব চালিয়ে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষকে আহত করেছে। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হামলার সময় মন্দিরের মূর্তি ভাঙচুর, বাড়িঘর ভাঙচুর ও হিন্দুপাড়ার নারী-পুরুষদের বেধড়ক পেটানো হয়।

মহাকাল পাড়ার গৌর মন্দিরের পুরোহিত নরেন্দ্র প্রভু জানান, আকস্মিকভাবে একদল যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে মন্দিরে ভাঙচুর শুরু করে। পরে তারা মূর্তিতে আঘাত করে ও লুটপাট চালায়। এ সময় তাঁকেও মারধর করা হয়।

একই কায়দায় সদরের পশ্চিম পাড়ার জগন্নাথ মন্দির, নমশূদ্র পাড়ার কালীবাড়ি মন্দির, মহাকাল পাড়ার শিবমন্দির, দুর্গামন্দির, শীলপাড়ার লোকনাথ মন্দির, দত্তপাড়ার দত্তবাড়ি মন্দির, সূত্রধর পাড়ার কালী মন্দিরসহ এসব পাড়ার দুই শতাধিক বসত ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে দাবি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের।

নাসিরনগর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক খৈলকদ পোদ্দার অভিযোগ করে বলেন, অন্তত দুই শতাধিক হিন্দু বাড়িঘর ও ১৫টি মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই সমাবেশে যোগ দেয়া লোকজনই এই হামলা চালিয়েছে। তবে তাদের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুই সংগঠনের নেতারা।

এ প্রসঙ্গে হেফাজতে ইসলামের ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আল্লমা মুফতি মুবারকুল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমরা প্রশাসনের অনুমতিতে শান্তিপূর্ণভাবে ওই ঘটনার প্রতিবাদ করেছি। আমাদের ছেলেরা কোনো মন্দির বা বাড়িঘরে হামলা করেনি।'

তিনি পবিত্র কাবাকে ব্যঙ্গ্য করার প্রতিবাদ করে বলেন, পবিত্র কাবাঘর নিয়ে এইরকম উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড খুবই নিন্দনীয়। এতে সমাজে অসৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে। তাই আমরা এ রকম ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সমাজে যারা এসব বিসৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তাদেরও বিচার দাবি করছি।'

অপর দিকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নাসিরনগর উপজেলা শাখার প্রচার সম্পাদক মুফতি ইসহাক আল হুসাইন জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করেছে। এই সমাবেশ থেকে কেউ হামলা চালায়নি। এগুলো কোনো কুচক্রি মহলের কাজ বলে তার ধারণা।

এ ব্যাপারে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবদুল কাদের বলেন, গ্রেপ্তারকৃত রসরাজের বিরুদ্ধে থানার এস.আই কাউছার বাদী হয়ে 'তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে' একটি মামলা দায়ের করেছেন। আর ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

আরআর

http://ourislam24.com/2016/10/31/%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE-%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ