মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

অস্ট্রেলিয়ায় পাদ্রীদের যৌন নিগ্রহের শিকার সাড়ে চার হাজার শিশু

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

Padriআওয়ার ইসলাম : গত ছয় দশকে শিশুকামী পাদ্রীদের হাতে চার হাজার ৪৪৪ জন শিশু নিপীড়নের শিকার হয়েছে। দেশটির ক্যাথলিক চার্চগুলোতে ১৯৫০ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো হয়েছে।

সোমবার সিডনীতে এ ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে গঠিত 'রয়্যাল কমিশন'।

এসব ঘটনায় এক হাজার ৮৮০ জন পাদ্রী জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে কমিশন। তাদের মধ্যে ৯০ ভাগই পুরুষ এবং ১০ ভাগ নারী।

এর ফলে অস্ট্রেলিয়ার মোট ক্যাথলিক পাদ্রীর সাত ভাগের বিরুদ্ধেই শিশুকামীতার অভিযোগ উঠল।

জানা গেছে, পাদ্রীদের বিরুদ্ধে ব্যাপকহারে শিশুকামীতার অভিযোগ তদন্তে ব্যাপক চাপ তৈরি হওয়ায় ২০১২ সালে ঘটনার তদন্তে রয়াল কমিশন গঠিত হয়।

চার বছর ধরে অভিযোগের শুনানি শেষে এখন তদন্ত প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে কমিশন। কমিশনের প্রধান প্রশ্নকারী আইনজীবী গেইল ফারনেস বলেছেন, যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুদের মধ্যে বালকদের গড় বয়স ১১ এবং বালিকাদের গড় ১০ বছর।

কমিশন জানিয়েছে ভিক্টোরিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া এবং নিউ সাউথ ওয়ালসের ৯৩ চার্চের সংশ্লিষ্ট পাদ্রী, ব্রাদার, সিস্টার এবং সাধারণ কর্মীরা যৌন নিপীড়নের ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে।

এ সব ঘটনার তদন্ত করতে কমিশন কয়েক হাজার ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে। এছাড়া শিশু যৌন নিপীড়নের বিষয়ে চার্চ, এতিমখানা, স্পোর্টিং ক্লাব, তরুণ গ্রুপ এবং স্কুলগুলোতে শুনানি করে।

এদিকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার চার্চ কর্তৃপক্ষ সত্যানুসন্ধান, বিচার, এবং পরিস্থিতি উত্তরণে একটি কাউন্সিল গঠন করেছে।

কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী ফ্রান্সিস সুলিভান রয়াল কমিশনকে বলেছেন, যৌন নিপীড়নের সংখ্যা ভয়াবহ, এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক এবং অসমর্থনীয়।

তিনি বলেছেন, এসব তথ্যসহ গত বছর চার বছর ধরে আমরা যা শুনে আসছি, তাতে প্রতীয়মান যে অস্ট্রেলিয়ার ক্যাথলিক চার্চগুলোর একাংশ যৌন নিপীড়ন থেকে শিশুদের রক্ষায় বড় ধরনের ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

এসব ঘটনায় ক্যাথলিক হিসেবে লজ্জায় আমাদের মাথা হেট হয়ে গেছে, বলেও মন্তব্য করেন ফ্রান্সিস সুলিভান।

যৌন নিপীড়নে জড়িত বলে অভিযুক্ত পাদ্রীদের মধ্যে সবচেয়ে সিনিয়র হলেন জর্জ পেল। তিনি বর্তমানে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সদর দফতর ভ্যাটিকানের অর্থ বিভাগের প্রধান।

২০০২ সালে সিডনির আর্চ বিশপের দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ভিক্টোরিয়া রাজ্যে ১৯৭০ সালে পাদ্রীদের বিরুদ্ধে ওঠা শিশুকামীতার অভিযোগ সামলানোর বিষয়ে পক্ষপাতের জন্য তিনি অভিযুক্ত।

সূত্র : দৈনিক যুগান্তর

-এআরকে


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ