বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ৪৫ কিলোমিটার যানজট ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক: ট্রাম্পের আহ্বান নাকচ করল সৌদি ও পাকিস্তান দুপুরের মধ্যে ৭ অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস ‘সাধারণ আলেম সমাজ’-এর ৭১ সদস্যের কমিটিতে যারা স্থান পেলেন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা আজ কালশি বস্তির অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে বিকেএম নেতৃবৃন্দ দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে খেলাফত মজলিসের পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা কুরবানি: গ্রামীণ অর্থনীতির মৌসুমি প্রাণশক্তি ভোলায় কালবৈশাখী ঝড়ে উড়ে গেল দাখিল মাদ্রাসার টিনের চাল এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় বিআরএফের আব্বাস উদ্দিন শায়ক

কাওমি সনদের চলমান সমস্যা; যেভাবে হতে পারে সমাধান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ড. হাফেজ এবিএম হিজবুল্লাহ

কাওমী সনদ স্বীকৃতির পর অনেকের মনে নানাধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যেমন, কে হবে এ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি কতৃপক্ষ? কোন বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া কি এম এ-র এ্যকাডিমিক সনদ দেয়া যায়? সর্ব্বোচ্চ এম এ স্বীকৃতির কারণে নিম্নস্তরের স্বীকৃতির কী হবে? এ স্বীকৃতির মাধ্যমে দেশ ও বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যাবে কি না । উচ্চতর শিক্ষা (এম ফিল) করা যাবে কি না। ইত্যাদি। তো এ বিষয়ে বক্তব্য হল-

প্রথমত: এটা স্বীকার করে নেয়া যে, কাওমী মাদরাসার দাওরা অবশ্যই এম এ-র সমতুল্য । যারা এটা স্বীকার করেন না তারাও এটা বিলক্ষণ জানেন যে, স্বীকার করি বা না করি কাওমী শিক্ষা ব্যবস্থার একটি ভিত্তি আছে। সেখানের পড়া লেখার মান অন্যান্য শিক্ষাঙ্গনের চাইতে কম নয়। বরঞ্চ দেখা যায় যারা সন্তানকে ভাল আলিম বানাতে চান তারাও বলেন এর জন্য কাওমী মাদরাসার বিকল্প নেই। কারণ, যেভাবে কাওমী মাদরাসার উস্তাযগণ ছাত্রদের পিছনে সময় দেন এবং মেহনত করেন সেটা অন্যান্য শিক্ষাঙ্গনে বিরল। সমমানকৃত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের শিক্ষার মান অনেক ভাল। এখন স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে সেটাকে প্রতিষ্ঠিত করা হল।

স্বীকৃতি কতৃপক্ষ কে হবে? বিষয়টি খুব যে জটিল এমন নয়। আবার জটিল মনে করাও অসঙ্গত নয়। এ ক্ষেত্রে তিনটি পথ আছে।

এক. দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষণাই এ্যাকাডেমিক স্বীকৃতির জন্য যথেষ্ট । তবে সমস্যাটা যেখানে সেটা হচ্ছে আমাদের এ্যাকাডেমিশিয়ান যারা আছেন তারা এটা মানবেন বলে মনে হয় না।

দুই. কোন বিশ্ববিদ্যালয়কে এ দায়িত্ব দেয়া যে, তারা এ এ্যাকাডেমিক সনদের সত্যায়ন করবেন মাত্র। যেমন পাকিস্তানে এভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে যে, বেফাক কতৃক জারীকৃত সনদকে কোন বিশ্ববিদ্যালয় যেমন করাচী বিশ্ববিদ্যালয় সত্যায়ন করে। এ ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেছেন। তারা এর সত্যায়ন কতৃপক্ষ হতে পারে।

তিন. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইচ্ছা করলে তাদের সিন্ডিকেট কর্তৃক স্বীকৃতির অনুমোদন দিতে পারে। যেমন ভারতের আলীগড়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তা দিয়ে থাকে।

দ্বিতীয়ত: এটাকে বলা যায় ওয়ান স্টপ স্বীকৃতি । নিম্নস্তরের স্বীকৃতির প্রশ্ন অযৌক্তিক নয়। তবে ওয়ান স্টপ স্বীকৃতির কারণে নিম্নস্তরের স্বীকৃতিও স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এসে যায়। তবে এটা যেহেতু স্বীকৃত নয় তাই বিভিন্ন পর্যায়ে তা গ্রহণযোগ্য না হওয়াটাই স্বাভাবিক । এ কারণেই কেউ এ সনদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরে যেমন অনার্স ও এম এ তে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ, অনার্স এর জন্য প্রয়োজন দাখিল ও আলিম বা সমমানের সার্টিফিকেট। আর এম এর জন্য প্রয়োজন অনার্স এর সার্টিফিকেট।

এথন প্রশ্ন উঠেছে এ সার্টিফিকেট দিয়ে পরবর্তি স্তর এম ফিল-এ ভর্তি হতে পারবে কি না । এর উত্তর হল, এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর । তারা এটাকে গ্রহণ করলে ভর্তি হতে পারবে । অন্যথায় নয় । তবে সরকার যদি আইনের মধ্যে এমন কোন ধারা রাখে যে এ সনদের মাধ্যমে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের এম ফিলে ভর্তি করতে পারবে তাহলে সেটা একটা পথ হতে পারে।

তৃতীয়ত: নিম্নস্তরের স্বীকৃতি না থাকা সত্তেও সরাসরি এম এ-তে ভর্তি হওয়ার অবশ্য নযীর আছে। যেমন, ভারতের আলিগড়, মিল্লিয়া ও হামদর্দসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নির্ধারিত স্বীকৃত মাদরাসা থেকে প্রাপ্ত দাওরা সনদকে বি এ-র মান ধরে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এম এ -তে ভর্তির সুযোগ দেয়। সেখানে তারা নিম্নস্তরের সার্টিফিকেট চায় না। পরবর্তিতে তারা এম ফিল ও পিএইচ.ডি করারও সুযোগ লাভ করে থাকে।

অপরদিকে পাকিস্তানে বেফাকের সনদ প্রাপ্তির পর কোন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক তা সত্যায়নের পর ঐ সনদে তারা সরাসরি এম ফিল-এ ভর্তি হতে পারে এবং পরবর্তিতে পিএইচ.ডি করারও সুযোগ পায় । আমাদের বাংলাদেশি কিছু ছাত্র এভাবে পিএইচ.ডি করেছেন বলে তথ্য রয়েছে।

চতুর্থত: দেশে বা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে অবশ্যই তাদের শর্ত পূরণ করতে হবে । যদি তারা আমাদের এ স্বীকৃতিকে মেনে নেয় তাহলে তো ভাল। তারা পরবর্তি স্তর অর্থাৎ মাজিস্তের বা এম ফিল-এ ভর্তি হতে পারবে। অন্যথায় এটা আদৌ সম্ভব হবে বলে মনে হয় না ।

পঞ্চমত: চাকররি ক্ষেত্রে আমাদের ছেলেরা কি প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে? এর উত্তরে প্রথম কথা হল, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল এম এ পাশ ছাত্র/ছাত্রী কি সরকারি চাকরি পায়? বিভিন্ন সেক্টরেও কি তাদের চাকরি নিশ্চিত? দ্বিতীয় কথা হল, কোন সেক্টরে এ সনদ গ্রহণযোগ্য হবে সেটা নির্ধারণ করতে হবে।

অন্যান্য সার্টিফিকেটের মত এ সনদ সকল ক্ষেত্রে কী গ্রহণযোগ্য হবে? আগে এগুলোর সমাধান হতে হবে। তারপর আমি বলব কাওমী সনদপ্রাপ্তদের উম্মুক্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হোক। আমার বিশ্বাস তারা জাতিকে হতাশ করবে না। তারা প্রমাণ করতে সক্ষম হবে তাদের মাঝেও যোগ্যতা আছে। বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় দেখা যায় একশ নম্বরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছাত্ররা দুইশ নম্বরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের চাইতে উম্মুক্ত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায়। কাওমী ছাত্ররা তাদের চাইতে কম যোগ্যতা সম্পন্ন নয়।

সবশেষে আমার জানামতে ভারত পাকিস্তানের ছাত্ররা খুব কমই এটা ব্যবহার করছে বলে দেখা যায়। তাদের অনেকেই বলে থাকে ‘ভাই! এম এ পাশ বলার চাইতে দাওরা পাশ বলার আনন্দই ভিন্ন’।আমাদের দেশে কী হবে সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আল্লাহ হাফেয ।

কওমি শিক্ষায় উচ্চ শিক্ষিতদের আগ্রহ বাড়ছে

প্রশ্নবাণে কওমি মাদরাসা : আমাদের নির্মম রসিকতা


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ