ফেসবুক মেসেঞ্জারে কোন এক অসতর্ক মুহূর্তে নিজের একটি নগ্ন ছবি পাঠিয়েছিলেন প্রেমিককে। দোকানে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে বিল দিয়েছেন; কিন্তু মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করেননি, দোকানী কোন যন্ত্রে কার্ডটি ঢুকিয়েছেন, কয়বার ঢুকিয়েছেন। আপনার পরিবারের সব সদস্যের মোবাইল ফোনের সিম কার্ড ক্লোন করে নিলো অজ্ঞাত কেউ ।
কিংবা আনমনে কম্পিউটারে ডাউনলোড করে ফেললেন একটি 'র্যানসমওয়্যার'। একবারও কি ভেবেছেন কি ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে পারে এর?
বাংলাদেশ যখন প্রতিনিয়ত ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে পূর্ণাঙ্গভাবে ডিজিটাল হবার পথে, তখন সমানতালেই বাড়ছে ভয়ঙ্কর এসব সাইবার অপরাধের ঝুঁকি।
অপরাধগুলো এখন আর টিভির পর্দার বা থ্রিলার সিনেমার বিষয়বস্তু নেই। আপনার আমার আশপাশেই ঘটছে, প্রতিনিয়তই।
অসতর্ক এক কিশোর প্রেম:
"আমার তিন বছর আগে একটা প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তখন আমরা আরো ছোট ছিলাম, বয়স কম ছিল। তখন আমরা কিছু ছবি আদানপ্রদান করেছিলাম। গোপন, কিছুটা আপত্তিকর বলা চলে..."।
কথাগুলো যিনি বলছিলেন, ধরা যাক তার নাম মিজ এক্স। তিনি ঢাকার নামীদামী একটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্রী।
তিন বছর আগে যখন মি. ওয়াইয়ের সঙ্গে প্রেম ছিল, তখন নিতান্তই একটি বালিকা তিনি।
সেই প্রেমও ভেঙ্গে গেছে বহুদিন হয়। কিন্তু অবুঝ বয়সের সেই প্রেম নিয়ে মিজ এক্স এখন দারুণ দুর্দশাগ্রস্ত।
এক সন্ধ্যায় ফেসবুকে একটি ফেক আইডি থেকে মিজ এক্সের কাছে বার্তা আসে, 'আপনার ছবি আছে আমাদের কাছে। বিকাশে ৫ হাজার টাকা পাঠান, নইলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেব'।
আইডিটি ভুয়া হলেও ছবিগুলো বাস্তব। তিন বছর আগে ফেসবুকে পাঠানো সেই 'কিছুটা আপত্তিকর' ছবি।
মি. ওয়াই জড়িত নন তো এর সঙ্গে? সন্দেহ জাগে।
কিন্তু, প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেলেও যোগাযোগ আছে দুজনার মধ্যে।
ঘটনার পরপরই মিজ এক্স ফোন করে সবিস্তার জানিয়েছিলেন মি. ওয়াইকে।
নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মি. ওয়াই পরদিন সকালেই সাবেক প্রেমিকার কলেজের সামনে এসে তার সঙ্গে দেখা করেন, প্রতিশ্রুতি দেন মিজ এক্সের এই দুর্দিনে তার পাশে দাঁড়াবেন।
মি. ওয়াইয়ের সঙ্গে দেখা করে আমার সন্দেহের ব্যাপারটি জানাই তাকে, জবাবে তিনি অস্বীকার করেন ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ। বলেন, 'আমার নিজের ছবিও সেখানে আছে। আমার সম্মানও যুক্ত এর সাথে'।
মিজ এক্সও মনে করেন মি. ওয়াই এসবের মধ্যে নেই, কারণ প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেলেও তারা এখন 'ভাল বন্ধু'।
অর্থাৎ তৃতীয় কোন ব্যক্তির খপ্পরে পড়েছে বাংলাà¦