মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

পৃথিবীর এতো প্রচণ্ড গতি আমরা বুঝি না কেন?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বশির ইবনে জাফর
নিজস্ব প্রতিবেদক

আমাদের এই পৃথিবী নিজ অক্ষের চারদিকে ২৪ ঘন্টায় একবার ঘুরছে। আর এই ঘূর্ণনের ফলেই আবর্তিত হচ্ছে রাত দিন।

পৃথিবীর ব্যাস হিসেব করে ২৪ ঘন্টার এই গতির প্রকৃতি থেকে জানা যায় পৃথিবীর বিষুবীয় অঞ্চলে যারা অবস্থান করছে তারা ঘন্টায় ১৬০০ কিলোমিটার হারে পৃথিবীর সাথে ঘুরছে! তাছাড়া, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘন্টায় ১ লাখ ১০ হাজার কিলোমিটার বেগে ঘুরছে!

আবার সূর্য তার গ্রহগুলো নিয়ে গ্যালাক্সিতে ঘন্টায় ৮ লাখ ২৮ হাজার কিলোমিটার বেগে ঘুরছে! এত বিপুল গতিতে ধাবমান থাকার পরেও আমরা এই গতি অনুভব করতে পারি না।

অথচ বাসে কিংবা ট্রেনে কিংবা অন্যান্য বাহনে এর তুলনায় তুচ্ছাতিতুচ্ছ গতিতে ভ্রমণ করেও আমরা বুঝতে পারি।

আমাদের শরীরের উপর দিয়ে প্রচণ্ড ধকল বয়ে যায়। কিন্তু কেন তবে আমরা পৃথিবীর এই প্রচণ্ড গতি বুঝতে পারি না?

প্রকৃতপক্ষে আমরা যখন কোন যানবাহনে গতিশীল থাকি তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুষম বেগে চলতে পারি না। অর্থাৎ সময়ের সাথে এর বেগ পরিবর্তিত হয়েই থাকে।

কখনো একটি বাস হয়তো প্রতি ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে চললো পরক্ষণে কোন ঘন্টায় ৭০ কিলোমিটার বেগে চলল। এভাবে যখন চলি আমরা তখনই এর বেগের পরিবর্তনটুকু অনুধাবন করতে পারি।

সময়ের সাথে বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলা হয়। আমরা বেগ অনুভব করতে পারি না। বেগের পরিবর্তনের হার অর্থাৎ ত্বরণ অনুভব করতে পারি।

যদি বেগের পরিবর্তন না হয় তাহলে বেগের পরিমাণ যত বেশিই হোক না কেন তা অনুভবক্ষম হবে না এবং আমাদের শরীরে তার কোনো প্রভাবই পড়বে না।

মানবসৃষ্ট সব গতিশীল বস্তুই কমবেশী অসম বেগে গতিশীল হয়, অর্থাৎ সর্বদা কিছু না কিছু ত্বরণ হয়েই থাকে।

আবার যদি বেগের মান মোটামুটি সুষম থাকেও তবু এর দিকটি পরিবর্তিত হয়ে যায়।

পদার্থ বিজ্ঞানের একেবারে প্রাথমিক আলোচনায় আছে বেগের মান বা দিক বা উভয়ই পরিবর্তিত হলে বস্তুর ত্বরণ ঘটে। কাজেই বেগের মান সুষম হয়ে যদি দিক পরিবর্তিত হয় তবুও আমরা সেই গতি অনুভব করতে পারব।

আমাদের সৃষ্টি প্রতিটি বাহনই কমবেশি দিক পরিবর্তন করে। শুধু তাই নয়, চলতে চলতে এতে কমবেশি ঝাঁকুনিও তৈরি হয় যেটি বেগের দিক পরিবর্তনসূচক।

কিন্তু যদি বেগের মান ও দিক স্থির থাকে তাহলে আমরা তা অনুভব করব না। যেমন স্থির বা অনুত্তাল সমুদ্রে জাহাজ অনেকসময় বেশ সুষম বেগে চলে। তাই জাহাজের কেবিনে শুয়ে চলন্ত জাহাজকে আমাদের স্থিরই মনে হয়।

তাছাড়া পৃথিবীর নিজের যেসব গতি তথা আহ্নিক বা বার্ষিক গতি সেগুলোর সবই অত্যন্ত সুষম। এ কারণেই এদের গতি অনুভব করা যায় না।

তারপরও যদি পৃথিবীতে আমাদের পরিপার্শ্বের বিভিন্ন বস্তু বিভিন্ন বেগে গতিশীল থাকত তবুও আমরা বেগ বুঝতে পারতাম, একটির সাপেক্ষে অপরটির অবস্থান পরিবর্তনের কারণে।

কিন্তু পৃথিবীর পৃষ্ঠের সবকিছুই পৃথিবীর সাথে একই বেগে গতিশীল। তাই পৃথিবীর বেগ বোঝার উপায় নেই।

আগেরকার মানুষ পৃথিবীর এই বিশাল গতি অনুভব করতে না পারায় বিভ্রান্ত হতো। তারা মনে করতো পৃথিবী স্থির এবং এর আকাশে বিভিন্ন বস্তুর অবস্থান বদলাতে দেখে মনে করতো পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্র এবং অন্যান্য বস্তুগুলো পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।

মানুষের সেই বিশ্বাস ভাঙ্গতে শুরু করেছে গত চার শতাব্দী আগে, টেলিস্কোপের মাধ্যমে আকাশ পর্যবেক্ষণ শুরুর মধ্য দিয়ে। যার সবচেয়ে বড় অবদান বিজ্ঞানী গ্যালিলিও’র।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ