শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ।। ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৬ জিলহজ ১৪৪৭


‘৯৯৯’ তে মিলবে ৩ জরুরি সেবা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

উন্নত দেশগুলোর আদলে এবার বাংলাদেশেও চালু হলো ন্যাশনাল ইমারজেন্সি সার্ভিস বা জাতীয় জরুরি সেবা। ‘৯৯৯’ নম্বরে ডায়াল করলেই মিলবে জরুরি তিন সেবা। তাহলো, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশি সেবা।

আজ মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) থেকে বাংলাদেশেও চালু হচ্ছে এ জরুরি সেবা।

পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ বিভাগের এআইজি সহেলী ফেরদৌস বলেন, ‘আপাত তিনটি জরুরি সেবা দেওয়া হবে এই ৯৯৯ সেন্টারের মাধ্যমে। পুলিশের সাহায্যের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস দেওয়া হবে। যে কোনও মোবাইল ও ল্যান্ডফোন থেকে সম্পূর্ণ টোল-ফ্রি কল করে বাংলাদেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে এই সেবা নেওয়া যাবে।’

পর্যায়ক্রমে এ সেবার পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস ‘৯৯৯’ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে এ সার্ভিসের টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর পরীক্ষা করা হয়েছে।’’

রাজধানীর আবদুল গনি রোডের পুলিশ কন্ট্রোল রুমে এ সার্ভিসের দফতর খোলা হয়েছে বলেও জানা যায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে পরিচালিত এ কল সেন্টারটিতে প্রথম বারের মতো বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাগুলো থাকবে ৯৯৯ এ।

দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জরুরি সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০০ কল-টেকার এজেন্ট, ১৯ জন ডিসপ্যাচার ও ৮ জন সুপারভাইজার দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। দৈনিক তিন শিফটে ২৪ ঘণ্টায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

জরুরি সেবা কার্যক্রমে একই সময়ে ১২০ জন সাহায্যপ্রার্থী কথা বলতে পারবেন। ৯৯৯ এ কল করতে কোনও টাকা খরচ হবে না। মোবাইল ফোনে টাকা না থাকলেও বিপদগ্রস্ত যেকোনও নাগরিক দেশের যেকোনও প্রান্ত থেকে ৯৯৯ এর মাধ্যমে পুলিশসহ অন্যান্য জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর সাহায্য নিতে পারবেন।

জরুরি সেবা ছাড়াও কোনও অপরাধ সংঘটিত হতে দেখলে, প্রাণনাশের আশঙ্কা দেখা দিলে, কোনও হতাহতের ঘটনা চোখে পড়লে, হতাহতের আশঙ্কা তৈরি হলে, আশেপাশে দুর্ঘটনা ও আগুনের ঘটনা ঘটলে ৯৯৯ এ কল দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে এ বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস- ৯৯৯’ পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। ওই সময়ে নাগরিকদের পক্ষ থেকে সেবা নেওয়ার জন্য ৯৯৯ নম্বরে ২৭ লাখ ১০ হাজার ৭৬৪টি কল আসে। এর মধ্যে পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে কল এসেছিল শতকরা ৬৪ দশমিক ৮ ভাগ। এরপরেই ছিল ফায়ার সার্ভিস ও আম্বুলেন্স সেবা নেওয়ার কল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে গত ৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে এ সার্ভিসের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ সদর দফতরকে।

এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় প্রশাসনের সহায়তায় ৯৯৯ এর ব্যবহার, প্রচার ও কমিউনিটি সেফটি অ্যাওয়ারনেস কর্মশালা সম্পন্ন করা হয়। প্রত্যেকটি জেলা থেকেই ৯৯৯ এর কার্যক্রমকে অব্যাহত রাখা, এর প্রচারণা ও কার্যক্রম বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ