রকিব মুহাম্মাদ
আওয়ার ইসলাম
হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গাজা থেকে ইসরাইলের সীমান্তের দিকে মিছিল করে যাওয়ার পর গতকাল শুক্রবার তাদের ওপর ইসরাইলি সৈন্যরা গুলি চালিয়েছে। এতে ১৬ জন ফিলিস্তিন নিহত ও ১৪শ’ আহত হয়েছে।ইসরাইলের বিরুদ্ধে ছয় সপ্তাহব্যাপী এক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনিরা এই বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছে।
এদিকে, ফিলিস্তিনের গাজার বিভিন্ন দিক দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরি করেছে ইসরাইলি সেনারা। কার্যত গাজা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ড্রোন ব্যবহার করে কাঁদানে গ্যাস ফেলা হচ্ছে বিক্ষোভকারীদের ওপর। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি সীমান্তে এসে জড়ো হয়েছে।
সেনাদের প্রতি কোন হুমকি ছিল না। সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে তাদের ওপর গুলি চালানো হয় বলে দাবি করছে বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ইসরাইলের বর্বর সেনাদের নির্যাতনের চিত্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতেও বেশকিছু ভিডিও প্রকাশ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দূর থেকে ইসরাইলি স্নাইপারের গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে নামাজরত এক ফিলিস্তিন যুবক। সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন ফিলিস্তিনি তরুণ দৌঁড়ে এসে তাকে কোলে তুলে নিচ্ছে।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, টায়ার হাতে এক যুবক হাঁটছিল। হঠাৎ গুলি লেগে মাটিতে লুড়িয়ে পড়ছে সে।ফিলিস্তিনের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরগরম রয়েছে।
এদিকে, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইসরাইলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কয়েকজন আহত বিক্ষোভকারী জানান, কেউ কেউ সেনাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়েছিল, এটা ঠিক। কিন্তু সেনারা নির্বিচারে তাদের ওপর গুলি চালায়। গাজায় তারা চরম দারিদ্রের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়ে যাচ্ছে। তাই তাদের হারাবার কিছু নেই। সুস্থ হলেই তারা আবার বিক্ষোভ করবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টোনিও গুতেরেস এই সহিংসতার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইসরাইল তাদের এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইসরাইল এক দশক ধরে গাজা অবরুদ্ধ করে রেখেছে। হামাসকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যেই তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করছে। কিন্তু এই দুই পক্ষের মাঝে পড়ে সেখানকার ২০ লাখ বাসিন্দা অত্যন্ত দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
নামাজরত ফিলিস্তিনি তরুণকে গুলি করে হত্যা করল ইসলাইলি স্নাইপার (ভিডিও)