সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১২ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি জরুরি অবস্থা জারির কড়া সমালোচনা মাওলানা ফজলুর রহমানের মাহবুবা হাকিম এমপির বরাদ্দ ক্রীড়া সামগ্রী কিশোরদের মধ্যে বিতরণ নির্বাচন কমিশনার আইন নিয়ে আমাদের আশঙ্কা সত্যি হচ্ছে: ওয়াইসি ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে মাদরাসাগুলোকে বোর্ডের নির্দেশ রিয়াদে হামলায় নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের শোক-প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় হিরার সাফল্যে বিএনপির অভিনন্দন ‘পবিত্র ভূমিতে হামলা মুসলিম উম্মাহর জন্য গভীর উদ্বেগের’ আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন পরিদর্শনে জামিয়া ইমদাদিয়ার শায়খুল হাদিস চাঁদ দেখা যায়নি, জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু মঙ্গলবার

‎হানাফি উসুল অমূল্য রত্ন ও ফকিহ সাহাবায়ে কেরামের উত্তরাধিকার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| ‎নাঈম আবু বকর ||

‎অনেকে ভাবতে পারেন, হানাফি উসুলের জন্য কেন কাঁদতে হবে? হানাফি উসুল ছেড়ে মুহাদ্দিসীনের উসুল গ্রহণ করলে কী এমন ক্ষতি? হানাফি হিসেবে আমরা দুর্বল হলে কী আসে-যায়?
‎
‎জবাব হল, হানাফি উসুল এমন এক রত্ন, যা ফকিহ সাহাবায়ে কেরামের উত্তরাধিকার। হানাফি মাজহাবই একমাত্র সে রত্ন সংরক্ষণ করে রেখেছে। এই মাজহাব হারিয়ে যাওয়া মানে ফকিহ সাহাবায়ে কেরামের মানহাজ হারিয়ে যাওয়া।
‎
‎হযরত আবু হুরায়রা রা. একবার হাদিস বর্ণনা করলেন, ‘জারজ সন্তান তিনের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট’। অর্থাৎ, তার ব্যভিচারী পিতা-মাতার চেয়েও নিকৃষ্ট। হযরত আয়েশা রা. এ হাদিস গ্রহণ করলেন না। তিনি বললেন, ‘আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, لا تزر وازرة وزر أخرى (একের পাপ অন্যে বহন করবে না)’।
‎
‎হযরত আয়েশা রা. কি হাদিসটি মনের চাহিদায় অগ্রাহ্য করলেন? না, বৃহত্তর দলিলের আলোকে অগ্রাহ্য করেছেন। কুরআনের আয়াত ও শরিয়তের নীতির মাধ্যমে বুঝেছেন যে, এখানে বর্ণনাকারীর কোনও ভুল হয়েছে।
‎
‎এটাই নকদে মা’নবি। এটাই আহলে রায়ের মানহাজ। হানাফিরা এই মানহাজের অনুসারী। এক্ষেত্রে তাদের কোনও বিকল্প নেই।
‎
‎হযরত আবু হুরায়রা রা.-এর আরেকটি হাদিস ‘আগুনে পাকানো খাবার খেলে ওজু করতে হবে’। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হাদিসটি গ্রহণ করলেন না এই বলে যে, ‘আগুনে গরম করা পানি দিয়ে ওজু করলেও কি আবার ওজু করতে হবে’?
‎
‎এটা কি মনের চাহিদার অনুসরণ? না, বৃহত্তর দলিলের অনুসরণ। ওজুভঙ্গের কারণ সম্পর্কে শরিয়তের সুস্পষ্ট নীতিমালা আছে। শরিয়ত একটি সুচিন্তিত নীতিমালা-নির্ভর বিধান। এখানে হুটহাট কিছু হতে পারে না। তিনি দেখলেন, আগুনে পাকানো খাবার খেলে ওজু ভাঙা সে নীতির সঙ্গে মেলে না। তাতে বুঝলেন, আবু হুরায়রা রা.-এর কোথাও ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে।
‎
‎ব্যক্তির ভুল মেনে নেওয়া সহজ, শরিয়তের নীতিতে বৈপরীত্য মেনে নেওয়া কঠিন।
‎
‎এটাই নকদে মা’নবি। এটাই আহলে রায়ের মানহাজ। হানাফিরা ছাড়া আর কেউ তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেনি।
‎
‎এরকম আরও উদাহরণ আছে।
‎
‎হানাফি মাজহাব হারিয়ে যাওয়া বা দুর্বল হওয়া মানে ফকিহ সাহাবাগণের শরিয়ত বোঝার মানহাজ হারিয়ে যাওয়া। হানাফি মাজহাব হারিয়ে যাওয়া মানে মর্ম হারিয়ে শুধুই শব্দ-নির্ভরতা। হানাফি মাজহাব হারিয়ে যাওয়া মানে তেরশ বছর উম্মাহর আইন ও বিচারের খেদমত আঞ্জাম দেওয়ার মতো যোগ্যতার অধিকারী একমাত্র মাজহাব হারিয়ে যাওয়া।
‎
‎সুতরাং হানাফিয়তকে শক্তিশালী রাখতেই হবে। হানাফি উসুলের দিকে ফিরতেই হবে। অন্যথায় ইমাম আজম রহ.-এর কোনও ক্ষতি হবে না, ক্ষতি হবে আমাদেরই।

লেখক: আলেম ও গবেষক

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ