মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
৭ জেলায় পানিবন্দি দেড় লক্ষাধিক পরিবার, অর্ধশতাধিক নিহত আজও রাজশাহীতে সারাদেশের বাস চলাচল বন্ধ ফের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মতপার্থক্য থাকতেই পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়: প্রধানমন্ত্রী বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার বৈদ্যুতিক বোর্ডে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম–কক্সবাজারে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে আমিরে মজলিসের ত্রাণ বিতরণ ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় রাবেতার সঙ্গে কাজ করবে পাকিস্তান দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ

ফতোয়া বিভাগগুলো কেমন হওয়া উচিত?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

কওমি মাদরসায় দাওরায়ে হাদিসের পর উচ্চতর যে কতগুলো গবেষণা বিভাগ আছে তার মধ্যে চাহিদার শীর্ষে ইফতা বিভাগ। ইদানিং মুফতি না হলে যেন শিক্ষা অপূর্ণ থেকে যায়। পরিবারেরও চাহিদা এ বিভাগের।

চাহিদা বেশি হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিকতার বাইরেও ইদানীং ইফতা বিভাগ হচ্ছে। কিন্তু তার কতটা মনোন্নত এ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। এ বিষয়ে দেশের অন্যতম ফতোয়া বিভাগ বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের প্রধান, তানজিম বোর্ডের চেয়ারম্যান নিভৃতচারী আলেমে দীন মুফতি আরশাদ রাহমানী’র সঙ্গে কথা বলেছেন সুলাইমান সাদী

আওয়ার ইসলাম : আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফতোয়া বিভাগ গড়ে উঠছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অধীনে যেমন হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের বাইরে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ছোট ছোট বাসা-বাড়িতেও ফতোয়া বিভাগ গড়ে উঠছে। ফতোয়া বিভাগের কাঠামোগত এসব বিষয়ে আপনার ভাবনা কী?

মুফতি আরশাদ রাহমানী : আসলে একটা নির্দিষ্ট মানদণ্ডের অধীনে হলে আমি এতে ক্ষতির কিছু দেখি না। অবশ্য ঢালাওভাবে ফতোয়া বিভাগ করার পক্ষে আমি নই। তবু যারা খেদমতের উদ্দেশ্যে করছে তাদের খেদমতটিকে আমি ছোট করে দেখি কী করে?

আওয়ার ইসলাম : আপনি একটা নির্দিষ্ট মানদণ্ডের কথা বললেন। কী হবে সেই মানদণ্ড?

মুফতি আরশাদ রাহমানী : সেটা আমি মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী'র উক্তি থেকেই বলছি। তিনি এ ব্যাপারে যেটা বলেছেন, পর্যাপ্ত তামরিন, মুতালাআ আর দরসের নিশ্চয়তা দিতে পারলেই কেবল একটি ফতোয়া বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।

আমাদের দেশে কোথাও কোথাও ছয় মাস, নয় মাসেও শিক্ষার্থীরা ইফতা পড়ে মুফতি হয়ে যাচ্ছে। এতে তামরিন, মুতালাআ আর দরসের পর্যাপ্ততা কতটুকু বজায় থাকে আমি ভাবতে পারি না।

আওয়ার ইসলাম : দীর্ঘদিন ইফতা পড়ে ফতোয়া পড়ার একজন শিক্ষার্থী মুফতি হয়ে বের হন। এটা স্বাভাবিক একটি বিষয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ফতোয়া পড়তে তেমন বাছবিচার করা হয় না। গণহারে শিক্ষার্থদের ফতোয়া পড়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

অপরদিকে সমাজের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষিতরা ও এমনকি অনেক আলেমও মনে করেন, একজন শিক্ষার্থী ফতোয়া না পড়লে যেন সে আলেমই হয়নি। একটা মসজিদে ইন্টারভিউতে গেলেও প্রথমে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি মুফতি কিনা? এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?

মুফতি আরশাদ রাহমানী : এক্ষেত্রে আমরা ইফতা পড়াটাকে দাওরায়ে হাদিস পড়ার সঙ্গে তুলনা করতে পারি। দাওরা পড়ে মাওলানা হওয়াটাও কিন্তু একটা বিশেষ ক্যাটাগরির শিক্ষা সমাপনী। সবাই এখন মাওলানা হচ্ছে। কিন্তু সবাই সমান মানের আলেম হচ্ছে না।

তবে সবার ইলমে দীন শিক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে কেউ কেউ ভালো মাওলানাও হচ্ছে। তেমনি দাওরায়ে হাদিস পড়ার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থী উচ্চতর পড়াশোনা হিসেবে ইফতাটাকে বেছে নিচ্ছে।

সবাই যোগ্য না হলেও ইলমের গভীরতাটা মোটামুটি সবাই আঁচ করতে পারছে। আবার এদের মধ্যে কেউ কেউ ভালো ও যোগ্য মুফতি হয়ে বের হচ্ছে। ফতোয়া বিভাগগুলোর স্বার্থকতা এখানেই।

আওয়ার ইসলাম : আমাদের দেশের ফতোয়া বিভাগগুলোর মান নিয়ে যদি কিছু বলতেন...

মুফতি আরশাদ রাহমানী : নিদিষ্ট করে এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। কারণ নির্দিষ্ট কোনো ফতোয়া বিভাগ নিয়ে কিছু বলা তো আর সম্ভব নয়। তবে যারা যেমন মেহনত করছেন তেমন ফলাফলই আসছে।

আওয়ার ইসলাম : অন্যান্য দেশের সঙ্গে যদি তুলনা করা হয় তাহলে সমীকরণটা কী দাঁড়াবে?

মুফতি আরশাদ রাহমানী : অন্যান্য দেশেও প্রায় একই রকম দেখেছি। যতটুকু জেনেছি, ভারতে দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগ ছাড়া তেমন ভালো ফতোয়া বিভাগ খুবই কম।

শুনেছি, ওখানেও নাকি আমাদের দেশের মতো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে অনেক ফতোয়া বিভাগ হচ্ছে। ছোট ছোট ফ্ল্যাটে বাসায়ও ফতোয়া বিভাগ খুলে ইফতা পড়ানো হচ্ছে। আমার মনে হয়, সমীকরণে তেমন বিশেষ কিছু দাঁড় করানো যাবে না।

আওয়ার ইসলাম : আমাদের ফতোয়া বিভাগগুলোর মানোন্নয়নে আপনার বিশেষ কোনো পরামর্শ যদি থাকে...

মুফতি আরশাদ রাহমানী : ইফতা যারা পড়ছেন, পড়াচ্ছেন তাদের যথাযথ মেহনত করতে হবে। পর্যাপ্ত তামরিন, মুতালাআ আর দরসের জন্য বিপুল সময় ব্যয় করতে হবে।

তাহলে ইফতার মান আরো ভালো হবে। আরো ভালো যোগ্যতাসম্পন্ন মুফতি আমরা পাবো যারা সমাজকে কিছু দিতে পারবে।

একই বিষয়ে শীর্ষ মুফতি ও ইফতা বিভাগের দায়িত্বশীলদের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে। চোখ রাখুন আওয়ার ইসলাম কথোপকথন বিভাগে..

-আরআর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ