শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ফরিদগঞ্জে রাজকীয় বিদায় ৬ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের   বাংলাদেশ কওমী যুব ফোরামের আহ্বায়ক কমিটি, আহ্বায়ক সাখী সদস্য সচিব তানজিল কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান বাংলাদেশ দূতাবাসের  সৌদি আরব গেছেন সিরাত অলিম্পিয়াডের ওমরাহ বিজয়ী নাজিফা খান   ‘১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ’ সম্পর্কে যে তথ্য দিলেন পুলিশ বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মির্জা আব্বাসের অশ্রুসিক্ত বক্তব্যে থমকে গেল সংসদ ডা. জুবাইদা রহমানের হাতে জিয়া স্মৃতি বইমেলার উদ্বোধন শাপলা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান যুক্ত হচ্ছে কওমি মাদরাসার সিলেবাসে সাংবাদিকদের বেতন নিয়মিতকরণের দাবিতে বিএফ‌ইউজে এবং ডিইউজের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ

শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব নিরসনে ইরাকের মুসলিম তরুণদের অভিনব উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবদুল্লাহ তামিম: ইরাকে অনেক দিন ধরে চলে আসছে শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব। আর এ দ্বন্দ্ব নিরসনে তরুণরা নানান উদ্যোগ করে বলে জানা যায়। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ২০১২ সালে ইরাকে মোটরসাইকেল আরোহীদের একটি ক্লাব গড়ে ওঠে৷ দেশটিতে শিয়া-সুন্নির ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা এ ক্লাবের অন্যতম লক্ষ্য৷

শিয়া-সুন্নিদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব গড়া তাদের প্রথম কাজ। ৪২ বছর বয়সি ইরাকের সরকারি কর্মকর্তা বিলাল আল-বয়াতি ২০১২ সালে মোটর সাইকেল আরোহীদের একটি ক্লাব গড়ে তোলেন৷ তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ভাতৃত্ব গড়ে তোলা, রয়টার্সকে সম্প্রতি দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। এ ক্লাবের মাধ্যমে শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্বে জর্জরিত ইরাকে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে চান বয়াতি৷

রাজনীতি নিয়ে কথা নয়। এটাই তাদের স্লোগান। ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রথম যে কাজটি করা হয়েছে সেটি হচ্ছে, ক্লাবের সদস্যরা কেউ রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে পারেন না৷ কেউ সেটা করলে তাকে এক-দুইবার নিষেধ করা হয়, তারপর ক্লাব থেকে বের করে দেয়া হয়৷

সব শ্রেণির, বয়সের মুসলিমদের স্বাগত জানায় তারা। ‘দ্য ইরাকি বাইকার্স’ নামের ক্লাবটির সদস্য সংখ্যা এখন প্রায় ৩৮০৷ তারা সবাই পুরুষ এবং সব ধর্মের (শিয়া, সুন্নি, খ্রিষ্টান, কুর্দি, তুর্কমেন), বয়সের, পেশার ও সামাজিক শ্রেণির প্রতিনিধি তাদের সঙ্গে আছে। এটা একটা ক্ষুদ্র ইরাক’ বলেন ক্লাবের ৩৬ বছর বয়সি সদস্য আহমেদ হায়দার, যিনি একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থায় কাজ করেন৷

default

ঐক্যের ভাবমূর্তি গড়ার লক্ষ্যকে সামনে থাকে তাদের। ক্লাবের আরেকটি উদ্দেশ্য বাইকারদের ভাবমূর্তি উন্নত করা৷ এ লক্ষ্যে ক্লাবের সদস্যরা পুরো দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন৷ ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইরত আহত যোদ্ধাদের রক্ত দিয়ে সহায়তা করেছেন তারা৷

বাইকারদের প্রিয় ব্র্যান্ড ‘হার্লে ডেভিডসন’৷ কিন্তু সহজলভ্য না হওয়া এবং ব্যয়বহুল হওয়ায় মার্কিন এই মোটর সাইকেল নির্মাতার তৈরি বাইক চালানো সব ইরাকির পক্ষে সম্ভব হয় না৷ তবে স্থানীয় কারিগররা সাধারণ একটি মোটর সাইকেলকে বিশেষ মোটর সাইকেলে রূপান্তরিত করে থাকেন৷ সেগুলো চালিয়েই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর চেষ্টা করেন অনেক ইরাকি৷

তাদের সঙ্গে সবসময় ইরাকের পতাকা থাকে। ক্লাবের সদস্যরা যখন রাস্তা দিয়ে বাইক চালিয়ে যান, তখন তাদের অনেকের মোটর সাইকেলে ইরাকের পতাকা বাঁধা থাকতে দেখা যায়৷ বাইকার ক্লাব গঠনের ধারণাটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে পেলেও বয়াতি তার ক্লাবের মাধ্যমে নিজ দেশ ইরাককেই সবসময় তুলে ধরতে চান৷ আর মুসলিমদের মাঝে ভিন্ন আঙ্গিকে  এক এক্যর জন্ম দিতে চান তিনি। সূত্র: ডয়েচে ভেল, রয়টার্স

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ