মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৬ মাঘ ১৪৩২ ।। ১ শাবান ১৪৪৭


বাবরি মসজিদ : ‘সম্রাট বাবর যা করেছেন পাল্টানো যাবে না’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: মধ্যস্থতাকারী নিযুক্ত করেই বাবরি মসজিদ মামলার নিষ্পত্তি করতে চায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার এটি নির্ধারণ করেছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ।

শীর্ষ আদালত সব পক্ষকেই মধ্যস্থতাকারীদের নাম প্রস্তাব করতে বলেছে । সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখে মধ্যস্থতাকারীদের নাম চূড়ান্ত করবে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

তবে এই মধ্যস্থতার সময়ে সংবাদ মাধ্যমে এই সংক্রান্ত কোনো সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। শুনানিতে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, এতে বিবদমান সব পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমাবে।

প্রধান বিচারপতি ছাড়াও বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি এ এস বোদড়ে, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং বিচারপতি এস এ নাজির।

এদের মধ্যে অন্যতম প্রবীণ বিচারপতি এ এস বোদড়ের পর্যবেক্ষণ, জমি নয় বরং রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলা ভাবাবেগ এবং বিশ্বাসের’। ‘কে আক্রমণ করেছিল, বাবর কী করেছিল, সেই সময় কে রাজা ছিল, মসজিদ না মন্দির ছিল, সেসব আমরা পাল্টাতে পারব না। আমরা শুধু বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করতে পারব’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এই মামলায় মোট পাঁচটি পক্ষ। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া, রাম লালা বিরাজমান, অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা ও মহন্ত সুরেশ দাস। এর মধ্যে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ও নির্মোহী আখড়া মধ্যস্থতাকারীর সিদ্ধান্তে রাজি হলেও আপত্তি তুলেছে বাকি তিনটি পক্ষ। তাদের অনেকেরই যুক্তি, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব নয়।

এ প্রসঙ্গে বেঞ্চের মন্তব্য, ‘আমরা বিষয়টা (মধ্যস্থতা) অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। কিন্তু মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির এক শতাংশ সম্ভাবনা থাকলেও সেই সুযোগটা আমরা দিতে চাই।’

মধ্যস্থতার বিরোধিতায় এক আইনজীবীর যুক্তি ছিল, মধ্যস্থতায় সব পক্ষ রাজি হলেও সাধারণ মানুষ নাও মেনে নিতে পারেন, যেখানে এত মানুষের ভাবাবেগ জড়িয়ে এবং এক পক্ষ রাম মন্দির নির্মাণের তোড়জোড় শুরু করেছে।

এ প্রসঙ্গে বিচারপতি বোদড়ে বলেন, ‘আপনি তো ধরেই নিচ্ছেন, এক পক্ষকে অনেক কিছু ছাড়তে হবে বা সমঝোতা করতে হবে এবং অন্য পক্ষের জয় হবে। কিন্তু মধ্যস্থতা মানেই সব সময় এমনটা নাও হতে পারে। আপনি আগেই সিদ্ধান্তের কথা ভাবছেন।’ একাধিক মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করা হবে বলেও জানান বিচারপতি বোদড়ে।

প্রশ্ন ওঠে, সব পক্ষের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের দর কষাকষি বা আলোচনার বিষয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তার প্রভাবে উত্তেজনা বাড়তে পারে।

এই প্রসঙ্গেই বিচারপতির মন্তব্য, এই সব ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত নয়। এটা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা নয়। তবে এ নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা মতামত প্রকাশ করা উচিত নয়। সূত্র : আনন্দবাজার

আরআর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ