মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
মতপার্থক্য থাকতেই পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়: প্রধানমন্ত্রী বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার বৈদ্যুতিক বোর্ডে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম–কক্সবাজারে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে আমিরে মজলিসের ত্রাণ বিতরণ ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় রাবেতার সঙ্গে কাজ করবে পাকিস্তান দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ

লালখান বাজার মাদরাসার পরীক্ষা স্থগিত: সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

রকিব মুহাম্মদ
আওয়ার ইসলাম

ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের তাবলিগের বিতর্কিত মুরুব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর ব্যাপারে দারুল উলুম দেওবন্দের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে তার পক্ষপাত করার অভিযোগে চট্টগ্রামের লালখান মাদরাসার কেন্দ্রীয় পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’।

রোববার(১৭ মার্চ) জামিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ মাদরাসায় সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে লালখান মাদরাসার পরিচালক মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী দারুল উলুম দেওবন্দের সিদ্ধান্ত ও ওলামায়ে কেরামের অবস্থানের বিরোধিতা করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  এবং অযৌক্তিকভাবে বিতর্কিত তাবলিগি মুরব্বি মাওলানা সাদের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে নিজেও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

হাইয়াতুল উলয়া কর্তৃপক্ষ বলছে, ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ ও জমহুর ওলামায়ে কেরামের বিপক্ষে যারা অবস্থান করবে, তাদের বিরুদ্ধে সংস্থাটি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এমন একটি সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে লালখান মাদরাসার কেন্দ্রীয় পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি।

এদিকে, ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর এমন সিদ্ধান্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে আলোচনা সমালোচনা। প্রশ্ন উঠেছে, মাদরাসার পরিচালক মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী ভুল করে থাকলে সেই শাস্তি কেন নিরাপরাধ ছাত্ররা ভোগ করবে?

অনলাইন একটিভিটিস্ট ও খতিব মুফতি মনোয়ার তার ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেছেন, “ব্য‌ক্তির অপরা‌ধে মাদরাসা বা তার ছাত্র‌দের শা‌স্তি হ‌তে পা‌রে না। আপনারা যারা বোর্ড থে‌কে তা‌দের নাম কে‌টে দি‌চ্ছেন এ বড় যুলুম কর‌ছেন কিন্তু।”

আলেম ও লেখক মাওলানা লাবিব আব্দুল্লাহ লিখেছেন, “আমি মুফতী ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী সাহেবের চিন্তার সঙ্গে একমত নই৷ আপনিও দ্বিমত পোষণ করতে পারেন৷ কিন্তু আপনারা তালেবে ইলমদের পরীক্ষা স্থগিত করবেন এটি অন্যায় সিদ্ধান্ত৷”

আবার অনেকে শিক্ষা কমিশন বা সংস্থার পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা ন্যায়সঙ্গত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। লেখক ও গবেষক মাওলানা রশিদ জামিল লিখেছেন, “শিক্ষাবোর্ড, তাবলিগ এবং হেফাজতে ইসলাম; একই জিনিস নাকি আলাদা আলাদা? যদি একই জিনিস হয়, তাহলে কথা নাই। যদি আলাদা আলাদা হয় তাহলে কথা আছে।

“কথাহলো, এক প্রতিষ্ঠানের দায় অন্য প্রতিষ্ঠানের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া যাবে কিনা? যদি যায়, তাহলে কথা নাই। যদি না যায় তাহলে কথা আছে। কথাহলো, ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠানের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া যাবে কিনা।” লেখেন রশিদ জামিল।

আলেম ও শিক্ষক মাওলানা জাকারিয়া নোমান লালখান মাদরাসার পরিক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে একপেশে বলেছেন। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, “হাইয়ার এমন অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্ত কারো কাম্য ছিল না, তবে ঐ সিদ্ধান্ত সবাই মেনে নিতো যখন অন্য দালাল এতয়াতীদের ব্যাপারেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো, তাই আমি একপেশে সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”

তবে লালখান মাদরাসার পরীক্ষা স্থগিত করা সঠিক সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করলেন মাসিক আদর্শ নারীর সম্পাদক মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী।

তিনি তার ফেসবুক টাইমলাইনে লেখেন, “হাইআতুল উলয়ার সিদ্ধান্ত সহীহ দ্বীন রক্ষার স্বার্থেই। তাই সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে লালখান বাজার মাদরাসার ছাত্রদেরকে আসন্ন হাইআতুল উলয়ার পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লালখান বাজার মাদরাসার কর্তৃপক্ষের সমাধানমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।”

আরএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ