মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘গত ১৬ বছরে দেশে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে, দুর্নীতিবাজদের বিচার ধীরে ধীরে হবে’ সাংবাদিকদের একাংশকে কুত্তার মতো পেটানো দরকার: এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ৩৯ হাজার আখচাষিকে প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নেত্রকোনায় কানিজ নেওয়াজ মাদরাসায় ১১ পদে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ মসজিদুল হারামে তাওয়াফ-সাঈতে বৈদ্যুতিক যানের ভাড়া কত যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ইসলামের পথে বন্দীরা, কী বলছে গবেষণা? আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের ইসলাহি ইজতেমা সফল করতে কেরানীগঞ্জে আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় এশার জামাতে তৃতীয় রাকাতের সেজদায় গিয়ে আর উঠলেন না তিনি নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিলে পীর সাহেব চরমোনাই ‘শিগগিরই প্যারিস মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ শহর হবে’, মন্তব্য ট্রাম্পের

কাশ্মীরি সাংবাদিকদের করুণ গল্প

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ওমর আলফারুক।।

ভারত কর্তৃক কাশ্মীর অবরোধ কেবল মাত্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যু নয়। এ অবরোধের মধ্য দিয়ে তছনছ হয়ে গেছে গোটা কাশ্মীরের জনগণের প্রাত্যহিক জীবন। অসংখ্য পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম মানুষটিও খুব অসহায়ভাবে বেকার হয়ে বসে আছেন।

মুনিবুল ইসলামও তেমনই একজন। পেশায় তিনি ছিলেন ফটো সাংবাদিক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অবরোধের কারণে তার কার্যক্রম পরিচালনার সব রাস্তাই বন্ধ হয়ে যায়।

কী করবেন ভেবে না পেয়ে একটি দোকানে স্যালস ম্যানের কাজ শরু করেন। অবরোধের মুখে সেটিও আলোর মুখ দেখেনি। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের কাছে ধার-কর্জ কারার মতো অবস্থাও আর বাকী নেই।

Image result for Meet the journalists whose jobs vanished after India's Kashmir crackdown

পরিবারের প্রাত্যহিক খরচ জোগাড় করাই অসম্ভব হয়ে ওঠছে। তার ওপর তার স্ত্রী গর্ভবতী। তার চিকিৎসা বাবদ অনেক টাকার প্রয়োজন। এলাকায় কাজও নাই তেমন।

তাই পরিবারের কাউকে না জানিয়ে জীবিকার সন্ধানে অনন্তনাগ জেলায় চলে যান মুনিব। সেখানে তিনি একটি নির্মাণাধীন ভবনে ইট বহনের কাজ শরু করেন। সেখানে বেশকিছু দিন কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তার স্ত্রীর চিকিৎসা করান।

কিছু দিন পর তার ফটো দিয়ে একটি স্থানীয় ম্যাগাজিন প্রচ্ছদ করে। যেখানে তাকে একটি বিল্ডিংয়ে ইট বহনের কাজ করতে দেখা যায়। মুনিবের মতো একজন হাইপ্রোফাইল ফটো জার্নালিস্টের ‘লেবারের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ’র মতো করুণ কভার স্টোরি আর কী হতে পারে? গেল চার বছর যাবত তিনি দক্ষিণ কাশ্মীরে ফটো সাংবাদিকতার দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে আসছেন। ভারতীয় সৈন্য এবং স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরিদের ডজনোর্ধ্ব বন্দুক যুদ্ধের ডকুমেন্টারি করেছেন তিনি। তার কাজ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে।

কিন্তু ভারতীয় আগ্রাসন অগণিত মুনিবের স্বপ্নের দুনিয়া -যাকে বলে- একেবারেই তছনছ করে দিয়েছে। অবরোধ, অর্থনৈতিক মান্দা, অধিকার হরণ, মানবতা বিরোধী আগ্রাসনসহ সীমাহীন অত্যচারে জর্জরিত কাশ্মীরের আজাদি প্রিয় মানুষ। এমনকি ইন্টারনেট এবং মোবাইল সেবা পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সাংবাদকিদের এক্টিভিটিজ। সঙ্গত কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে মুনিবদের মতো বিপুল সম্ভাবনাময় তরুণ।

Muneeb-ul-Islam, photojournalist, atop an under-construction site in south Kashmir where he worked as a labourer during Kashmir lockdown.

অবরোধ পরবর্তী সময়ে মুনিব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইন্টারনেট না থাকায় বহু মানুষের জীবকিা নির্বাহ  ব্যাহত হয়েছে।