মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

গণপরিবহনে ভাড়া অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কোনোভাবেই কাম্য নয়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী।।

বাস-মিনিবাসের ভাড়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। গতকাল ৩১ মে রোববার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখা থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

নতুন নির্ধারিত এই ভাড়া ১ জুন, সোমবার থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ দুই মাস বন্ধ থাকার পর ৩১ মে থেকে সীমিত আকারে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত আসে সরকারের পক্ষ থেকে। এই অবস্থায় বাসের ভাড়া ৮০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করে বিআরটিএ। বিআরটিএ’র এই সুপারিশ পর্যালোচনা করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন জারি করলো।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন সীমিত পরিসরে হলেও অফিস-আদালত ও গণপরিবহন চালু করা কতোটা যুক্তিসংগত, তা নিয়েই রয়েছে অনেক প্রশ্ন। এরমধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এমনিতেই দুই মাসের বেশি সময় দেশ লকডাউনে থাকার কারণে স্বল্প আয়ের মানুষ পড়েছে চরম দুর্দশায়। এখন তাদের জরুরি যাতায়াতের সময় অস্বাভাবিক ভাড়া গুনতে হবে। এতে আর্থিক সংকটে থাকা জনগণের ভোগান্তি বহুগুণে বাড়বে।

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, বেসরকারি মালিকানাধীন গণপরিবহন ব্যবস্থার চালক, সহকারী, শ্রমিক-কর্মচারীরাও করোনাকালের দুঃসময়ের শিকার। তারাও দুই মাস ধরে উপার্জনহীন।

বিপুল বিনিয়োগের বাস অলস বসে থাকায় মালিকদের ক্ষতিও কম নয়। এর ওপর স্বাস্থ্যবিধি মানতে গিয়ে যদি অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখতে হয়, তাহলে জ্বালানি খরচ ও পারিশ্রমিক ব্যয় তোলাও ঝুঁকিতে পড়বে- এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। তবে এর জন্য ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেয়া কোনভাবেই সমীচীন নয়। বাস মালিকদের ক্ষতির দায় সাধারণ যাত্রীরা কোনভাবেই নিতে পারেন না।

আমরা মনে করি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে তেলের দাম কমালে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর দরকার হয় না। তাছাড়া বাস পরিচালনার ব্যয় যৌক্তিকভাবে হিসাব করে যাত্রীদের কাছ থেকে যে অর্থ কম আদায় হবে, তা সরকার প্রণোদনা হিসেবে দিতে পারে। বাস মালিকদেরও এই দুঃসময়ে মুনাফায় ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকা উচিত।

সরকার অফিস-আদালতসহ সব সচল করতে চাইছে জীবিকার জন্য। তাই গণপরিবহন সীমিত আকারে চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অথচ যে যুক্তিতে সড়ক পরিবহনের অন্যতম বাহন বাস ও মিনিবাসের ভাড়া বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, সেটি কি আসলে মানা হবে? স্বাভাবিক সময়ে আমরা দেখি বাস-মিনিবাসে টেনে যাত্রী তোলা হয়। এ বাস্তবতায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস কর্তৃপক্ষ যাত্রীসেবা দেবে এটা দেখবে কে?

আমরা বলতে চাই, মানুষের সামর্থ্য ও কষ্টের কথা বিবেচনা করে ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। এতে জনগণের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে জনকল্যাণ বিবেচনা করে কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন!

লেখক: মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী, প্রাবন্ধিক ও কলেজ শিক্ষক

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ