রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৯ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত: মির্জা ফখরুল গতানুগতিক শিক্ষার ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী ‘বছরের শেষের দিকে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার আলো দেখতে পাবো’  ক্ষুধা-তৃষ্ণায় বিপন্ন গাজার লাখো মানুষ নিখোঁজের দুই দিন পর ব্রহ্মপুত্র থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার কওমীপিডিয়ার তালিকায় দেশের শীর্ষ ৫ প্রভাবশালী আলেম আওয়ার ইসলামে শুরু হচ্ছে নিয়মিত আয়োজন ‘পেপসা নিবেদিত তারুণ্যের ভাবনা’ কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শূরা অধিবেশনে ৯ দফা প্রস্তাব গৃহীত জমিয়তের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কাউন্সিল প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরে আলেম শিক্ষককে মারধর ও মাদরাসা ভাংচুর: কী ঘটেছিলো সেদিন?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সাইফুল ইসলাম সুমন,
কচুয়া (চাঁদপুর) থেকে>

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তালিমুল কোরআন ওয়াল হিকমাহ (রহিমানগর) কওমী মাদরাসায় এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ ওমর ফারুককে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করা ও মাদরাসা ভাংচুরের ঘটনায় গতকাল ৩ জানুয়ারি রোববার সন্ধ্যায় মাদরাসা পরিদর্শন করেছেন ঢাকার একটি প্রতিনিধি দল।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক খোঁজ খবর নেন তারা। ভাংচুরকৃত মাদরাসা পরিদর্শন করেন। এসময় মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মো. হোসাইন আহমদ বলেন, ঘটনার দিন আমি বিশেষ কাজে চাঁদপুর থাকায় মাদরাসায় ছিলাম না। মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ শোনার পর ছাত্রের বাবাকে বলি, আপনারা একটু অপেক্ষা করুন, আমি চাঁদপুর থেকে অতিদ্রুত ফিরে আসছি। আপনারা যে অভিযোগ করেছেন তা যদি প্রমাণিত হয় আমরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। কিন্তু তারা আমার কোন কথা শুনেনি। তারা আমার মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ ওমর ফারুককে বেধরক মারধর করেছে, মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে এবং পরে তারা তাকে পুলিশে সোপর্দ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, মাদরাসার ছাত্র যে সময় উল্লেখ করে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে, আমি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখি, সে সময়ে শিক্ষক টয়লেটে হাজত সারতে গিয়েছিল ওই সময় ওই ছাত্র পাশ্ববর্তী রুমে কোরআন তিলাওয়াত করছে, তখন তার সাথে আরো কয়েকজন ছাত্র উপস্থিত ছিল। তিনি আরো বলেন, ওই ছাত্র মেধায় একটু দুর্বল ছিল এবং মাদরাসার নিয়ম ভহির্ভূত কাজ করায় শিক্ষক হাফেজ ওমর ফারুক তাকে চাপ প্রয়োগ করলে সে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ মিথ্যা অভিযোগ তুলে।

গতকাল ঢাকার বিশিষ্টজনদের এই প্রতিনিধিদল সরেজমিন পরিদর্শন করে বলাৎকারের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাননি। বরং মাদরাসা ভাংচুরের নিদর্শনগুলো স্বচক্ষে দেখেছেন। তারা অনতিবিলম্বে হাফেজ ওমর ফারুকের মুক্তি ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর সঠিক বিচার করার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

পরে মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ ওমর ফারুকের গ্রামের বাড়ি আকিয়ারা গিয়ে তার পরিবারের সার্বিক খোঁজ খবর নেন এবং তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশ হিফজ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও যাত্রাবাড়ী তাহফিজুল কোরআন ওয়াসসুন্নাহ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ ক্বারী নাজমুল হাসান, কচুয়ার শাজুলিয়া দরবার শরীফের পীর শাহ মুহাম্মদ রুহুল্লাহ শাজুলি, বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও সংগঠক মাওলানা রুহুল আমীন সাদী, সবার খবর সম্পাদক ও জাতীয় লেখক পরিষদের সেক্রেটারি মুফতি আবদুল গাফফার, টিকাটুলি সাওদা বিনতে জাম’আ রা.এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ ইসমাইল হাসান চৌধুরী, নারায়নগঞ্জ জামিয়া হোসাইনিয়া সিদ্দিকিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ ক্বারী শরীফুল ইসলাম, নিশ্চিন্তপুর ডিএস কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস নুর আহমদ আজাদী ও হাফেজ মোরশেদ সিরাজী প্রমুখ।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ