বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামরিক প্রশিক্ষণ বাড়াবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শ্রম আইন বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পাশে থাকবে জার্মানি উপকূলে আঘাত হেনেছে ‘অর্ণব’, দেশের চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত সাংস্কৃতির অন্ধানুকরণ ও আমাদের ধর্মীয়চর্চা ইরানের মধ্যস্থতায় হামলা বন্ধে হুতিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির লেখকপত্র পরিবারের সঙ্গে কক্সবাজার ইসলামী সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদের আড্ডা জাফর ইকবালসহ ৫ আসামিকে আত্মসমর্পণে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ ‘ক্রসফায়ারের’ নিয়ে আইজিপি বক্তব্য নাকচ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাতে ভালো ঘুমের জন্য যে ফলগুলো খাবেন হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনছারী রহ.: বর্ণাঢ্য জীবন, কর্ম ও সাধনা (পর্ব: ৫)

অভিশপ্ত সুদ: ঋণের চাপে সন্তান বিক্রি করলো বাবা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: নাটোরের বড়াইগ্রামে সুদি মহাজনের টাকা পরিশোধের চাপে বাধ্য হয়ে চাঁদনী খাতুন নামের ২২ দিনের এক কন্যাশিশুকে তার ভ্যানচালক বাবা রেজাউল করিম বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার নগর ইউনিয়নের কয়েন গ্রামে এক লাখ ১০ হাজার টাকায় শিশুটিকে বিক্রির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা কয়েন গ্রামের জনাব আলীর ছেলে রেজাউল করিম, সুদি কারবারি একই গ্রামের দুর্লভ প্রামাণিকের ছেলে আব্দুস সামাদ ও সানোয়ার হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েক মাস আগে রেজাউল প্রতিবেশী সুদি কারবারি কালাম হোসেন এবং আব্দুস সামাদের কাছ থেকে কিছু টাকা ঋণ নেন। এর মধ্যে ঋণের একটা অংশ পরিশোধ করলেও বাকি টাকা সুদসহ চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে ৮০ হাজারে দাঁড়ায়। এ টাকা পরিশোধের জন্য মহাজনরা উপর্যুপরি চাপ দিয়ে আসছিল তাকে। এক পর্যায়ে তার আয়ের একমাত্র উৎস রিকশাভ্যানটিও কয়েক দিন আগে কালাম হোসেন জোর করে নিয়ে নেয়। এরপরও টাকা পরিশোধের জন্য মহাজনরা চাপ দিতে থাকলে এক পর্যায়ে রেজাউল তার ২২ দিন বয়সী শিশুকন্যাকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু স্ত্রী ফুলজান বেগম তাতে বাধা দেওয়ায় রেজাউল ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘরের বেড়া কাটার পাশাপাশি নিজের পায়েও কোপ দেন। তিনি নিজেকে শেষ করে দেওয়ারও হুমকি দেন। এতে বাধ্য হয়ে তার স্ত্রী শিশুটিকে দিয়ে দিলে সুদি মহাজন আব্দুস সামাদের আত্মীয় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সরাইকান্দি কারিগরপাড়ার রফিকুল ইসলামের কাছে এক লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। পরে আব্দুস সামাদসহ অন্যান্য সুদি কারবারিরা তাদের পাওনা টাকা ভাগাভাগি করে নেয় এবং অবশিষ্ট টাকায় রেজাউলের জন্য একটি ভ্যান কিনে দেয়।

নগর ইউপি চেয়ারম্যান নীলুফার ইয়াসমিন ডালু বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। তবে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি শিশুটিকে দত্তক নিয়েছেন।

এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ওসি আনোয়রুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে আমরা জেনেছি বিক্রি নয়, শিশুটিকে দত্তক দেওয়া হয়েছে।

-কেএল


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ