বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামরিক প্রশিক্ষণ বাড়াবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শ্রম আইন বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পাশে থাকবে জার্মানি উপকূলে আঘাত হেনেছে ‘অর্ণব’, দেশের চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত সাংস্কৃতির অন্ধানুকরণ ও আমাদের ধর্মীয়চর্চা ইরানের মধ্যস্থতায় হামলা বন্ধে হুতিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির লেখকপত্র পরিবারের সঙ্গে কক্সবাজার ইসলামী সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদের আড্ডা জাফর ইকবালসহ ৫ আসামিকে আত্মসমর্পণে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ ‘ক্রসফায়ারের’ নিয়ে আইজিপি বক্তব্য নাকচ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাতে ভালো ঘুমের জন্য যে ফলগুলো খাবেন হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনছারী রহ.: বর্ণাঢ্য জীবন, কর্ম ও সাধনা (পর্ব: ৫)

শিশু অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা হবে ১০ বছর: হাইকোর্ট

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: শিশুরা অপরাধ যাই করুক না কেন ১০ বছরের বেশি সাজা দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি শিশুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ।

আজ বৃহস্পতিবার (০৪ মার্চ) বিচারপতি মো. শওকত হোসেন, বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি এএসএম আব্দুল মবিনের সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর রায়টি প্রকাশিত হয়।

রায়ে যে বিষয়সমূহে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে:

১। শিশুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ জুবেনাইল বিচার পদ্ধতির ধারণার পরিপন্থি।

২। নিউরোসাইন্স এবং সাইকোলজিক্যাল গবেষণা অনুযায়ী শিশুরা তাদের কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল নয়।

৩। শিশুরা তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। বস্তুত, ব্রেনের যে অংশ আবেগ ও যৌক্তিকতা নিয়ন্ত্রণ করে, শিশু অবস্থায় ব্রেনের সে অংশ পরিপক্ক হয় না।

৪। শিশুরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরিণতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখে না। অনেক ক্ষেত্রে তারা অপরাধের দোষ নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে নেয়।

৫। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা পাওয়ার প্রলোভনে শিশুরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়ে যায়। হাইকোর্ট তাদের রায়ে মানবাধিকার সংগঠন ব্লাস্টের একটি মামলার রায় পর্যালোচনা সহ আদালত বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালতের নজিরসমূহ আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।

পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি কর্তৃক লিখিত আটিকেল, বই, সাইন্টিফিক রিসার্চের ফলাফল নিয়েও আলোচনা করে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, সেগুলো হলো:

১। শিশুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কোনো সাক্ষ্যগত মূল্য নেই।

২। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি কোনো শিশুকে সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এবং

৩। অপরাধ যাই হোক না কেন, একজন শিশুকে ১০ বছরের বেশি সাজা প্রদান করা যাবে না।

প্রসঙ্গত, শিশুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়ে দেশে ফৌজদারি কার্যবিধিতে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক গঠন বিবেচনায় ১৯৭৪ সালের শিশু আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালিত হত। ২০১৩ সালে নতুন শিশু আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনে শিশুর বয়স, জবানবন্দি গ্রহণ, দণ্ড ও শিশু শোধনাগারসহ বিশেষ বিশেষ বিধান রাখা হয়। এই বিষয়ে দেশের উচ্চ আদালতের পক্ষে-বিপক্ষে রায় ছিল। সেজন্য ফুল বেঞ্চ গঠনের জন্য প্রধান বিচারপতির বরাবরে