বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
নাঙ্গলকোটে মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে দাওয়াহ ক্যাম্প, পুরস্কৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সবারই দায়িত্ব রয়েছে’ হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনছারী রহ.: বর্ণাঢ্য জীবন, কর্ম ও সাধনা (পর্ব: ৬) দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামরিক প্রশিক্ষণ বাড়াবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শ্রম আইন বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পাশে থাকবে জার্মানি উপকূলে আঘাত হেনেছে ‘অর্ণব’, দেশের চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত সাংস্কৃতির অন্ধানুকরণ ও আমাদের ধর্মীয়চর্চা ইরানের মধ্যস্থতায় হামলা বন্ধে হুতিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির লেখকপত্র পরিবারের সঙ্গে কক্সবাজার ইসলামী সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদের আড্ডা জাফর ইকবালসহ ৫ আসামিকে আত্মসমর্পণে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

কুরআনের শিক্ষার্থীকে প্রহারকারী শিক্ষক নয়, জল্লাদ: শায়খ আহমাদুল্লাহ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মোস্তফা ওয়াদুদ: কুরআনের শিক্ষার্থীকে প্রহারকারী শিক্ষক নয়, জল্লাদ বলে উল্লেখ করেছেন বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার ও দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ। আজ তার পেজে দেয়া এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

ভিডিওতে দেয়া বক্তব্যের চম্বুকাংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। তিনি বলেন, ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে যতক্ষণ পর্যন্ত একজন লোক বালেগ না হয় তথা নাবালেগ থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে শিশু বলেই গণ্য থাকে। আর কোনো শিশুর প্রতি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আদেশ-নিষেধ, শাস্তিমুলক কোন বিধান বা দন্ডবিধি প্রযোজ্য হয় না। এ ব্যাপারে সারাবিশ্বের ওলামায়েকেরাম একমত।

যেখানে সৃষ্টিকর্তা তার সৃষ্টির প্রতি এরকম দৃষ্টিভঙ্গি, সেখানে মা-বাবা অথবা অভিভাবক অথবা শিক্ষক বা কারোর জন্য কোনো শিশুর প্রতি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার কোন অধিকার নেই। এজন্য শিশুদের প্রতি তা’জীরের (শাস্তি) কোন কথা ইসলাম বলে না। তবে তা’দীব তথা আদবের কথা, তাদেরকে শিষ্টাচার শেখানো, প্রশিক্ষণ দেওয়া, শৃংখলা শিখানো-এগুলোর কথা ইসলাম বলে।

বিশেষ করে একজন শিক্ষকের শিক্ষার্থীর প্রতি কী ধরনের আচরণ হওয়া উচিত, সে ধরনের নির্দেশনা পাই আমরা সূরা আর-রহমান থেকে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন, ‘যিনি রহমান। যিনি পরম দয়ালু। তিনি মানবজাতিকে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন।’ এখানে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানবজাতির কোরআনের শিক্ষক হিসেবে নিজে অবতীর্ণ হয়েছেন। নিজেকে পেশ করেছেন বা উপস্থাপন করেছেন। আর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শিক্ষক হিসেবে নিজের যে গুণটি উপস্থাপন করেছেন সেটি হলো, ‘তিনি পরম দয়ালু এবং অত্যান্ত মায়াময়।’

এখানে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের আরো যে গুণবাচক নাম রয়েছে, ‘অধিক জ্ঞানী’, ‘অত্যন্ত জ্ঞানী’-এসকল গুণবাচক নামগুলোর তিনি প্রয়োগ না করে ‘দয়ালু’ গুণবাচক নাম তিনি এক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন। তিনি এখানে এই দয়ালু গুণবাচক নাম ব্যবহার করে এ বার্তা দিয়েছেন যে, যারা শিক্ষক হিসাবে অবতীর্ণ হবে তাদেরকে দয়ালু হতে হবে। তাদের অন্তরে থাকতে হবে মায়া। যেমনটি আল্লাহ তাআলা তার নিজের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন।

অতএব একজন কোরআনের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরকে বেদম প্রহার করতে পারেন না। অমানবিক আচরণ করতে পারেন না। যদি করেন তাহলে তিনি কোরআনের শিক্ষক নয় বরং জল্লাদ।

আবু দাউদ শরীফের রাসূলে করিম সা. ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ করো। আর তারা যখন দশ বছর বয়সে উপনীত হয় তখনও যদি নামাজ আদায় না করে, তাহলে শাসনমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করো। অর্থাৎ প্রহার করো। আর এ প্রহারটা হবে শাসনমূলক। আজকাল প্রহার করার নামে যে দৃশ্য আমরা দেখতে পাই এখানে সেটি মোটেও বুঝানো হয়নি।

ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আহমদ, ইমাম মালেক রহ.সহ সকল উলামায়ে কেরাম বা স্কলারগণ এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, সর্বোচ্চ শিশুকে তিনটি বাড়ি দেয়া যেতে পারে। নামাজ না পড়ার কারণে এবং সেটি শাস্তিমুলক নয় সেটি শাসনমূলক। শুধুমাত্র তাকে নামাজের প্রতি গুরুত্ব বোঝানোর জন্য এ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এবং তার গায়ে দাগ পড়তে পারে, সে অনেক বেশি ব্যথা পেতে পারে, এরকমভাবে কোন ভাবেই প্রহার করা যাবে না।

এমডব্লিউ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ