আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: চীনের উইঘুর মুসলিমরা যেসব নির্যাতন ভোগ করছে তা মানবতার ইতিহাসে এক জঘন্য অধ্যায়, ৫ মে উইঘুর মুসলিমদের উঙচচচ উঅণ উপলক্ষে মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সিলেটের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ সব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে চিনা উইঘুর মুসলিমদের উপর সে দেশের সরকারের নির্যাতনের চিত্র সম্বলিত পোস্টার সাঁটানো, মসজিদে মসজিদে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করা হয়েছে।
গতকাল ৫ মে বুধবার বাদ জোহর সিলেট নগরীর কালেক্টরেট জামে মসজিদ, কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদ, বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, বায়তুল আমান জামে মসজিদ জিন্দাবাজার, শাহ আবু তুরাব জামে মসজিদ, ছড়ার পার জামে মসজিদ, জজকোর্ট জামে মসজিদ, সোবহানীঘাট জামে মসজিদ, নাইওরপুল জামে মসজিদ, আম্বরখানা জামে মসজিদ, কামালগড় জামে মসজিদ সহ প্রায় অর্ধশতাধিক জামে মসজিদে আগত মুসল্লিগণদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
সিলেট নগরীর প্রায় শতাধিক মসজিদে এসব দাবি সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেন সংগঠনের সভাপতি আবুল হাশেম মোঃ সোহাইল, সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল হেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা খলিলুর রহমান, হাফেজ উসামা সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বিতরণকৃত লিফলেটে উল্লেখ করা হয়, উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত অ লের আগের নাম ‘পূর্ব তুর্কিস্তান’। এটির বর্তমান জিনজিয়াং প্রদেশে। চীন সরকার এ অ লকে জিনজিয়াং নাম দিয়েছে। ৯০ লাখ মুসলিম অধ্যুষিত এ অ লের প্রায় ১০ লাখ উইঘুর নারী-পুরুষ বন্দি রয়েছে সুরক্ষিত বন্দি শিবিরে।
চীন সরকার এ বন্দি শিবিরকে ‘চরিত্র সংশোধনাগার’ নাম দিয়েছে। চীন সরকারের দাবি, উশৃংঙ্খল অবস্থা থেকে নিরাপদ ও সুরক্ষা দিতেই তাদের এ কার্যক্রম। চরিত্র সংশোধনাগারের নামে চীন সরকার এ সব মুসলিমদের প্রতি চরম অত্যাচার ও নির্যাতন করছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তা উঠে এসেছে।
লিফলেটে ১৪টি দাবি উত্থাপন করা হয় তম্মধ্যে উইঘুর মুসলিমদের ঐতিহ্য উঙচচঅ নামক চার কোন বিশিষ্ট টুপি পরিধানের উপর সরকারী বিধি নিষেধ প্রত্যাহার, উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে সিস্টেমেটিক দমন বন্ধ, মুসলমানদের দরজায় বিশেষ কোড বসানো বন্ধ, জোর পূর্বক গর্ভপাত বন্ধ, শিনজিয়াং অ লে উইঘুর মুসলিমদের বন্দিশিবির খুলে দেওয়া, ভোকেশনাল এডুকেশন অবিলম্বে বন্ধ করা, ২০ লাখ উইঘুর মুসলিম আটকাবস্থা তুলে নেওয়া, সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া, অন্য চিনা পুরুষের সাথে উইঘুর মুসলিম মহিলাদের বিবাহ বন্ধ করা, জন্ম নিয়ন্ত্রণ ঔষধ গ্রহনে উইঘুর মুসলিম মহিলাদের জোরপূর্বক বাধ্য করণ বন্ধ, উইঘুর মুসলিম মহিলাদের ব্রেইন ওয়াশ ক্যাম্পেইন বন্ধ করা, কথিত শিক্ষা শিবির বন্ধ করা, সকল ধর্মীয় বিধি নিষেধ তুলে নেওয়া ও ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করা, সরকারী চাকুরীতে হিজাবী নারীদের নিয়োগ প্রদান ইত্যাদি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন সূত্র জানায়, জিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসরত উইঘুর মুসলমানদের ওপর চীন সরকারের বর্বরতা সীমা ছাড়িয়ে গেছে। শত নির্যাতন ও নিপীড়নের মুখেও দেশপ্রেমে ভাটা পড়েনি। তারা চীনকে ভালোবাসে। নিজ দেশে নিজেদের প্রিয় ও পবিত্র ধর্ম ইসলাম নিয়েই বেঁচে থাকতে চায় উইঘুর মুসলিম জাতি।
চিনের উইঘুর প্রদেশের মুসলমানদের উপর থেকে জুলুম নির্যাতন উঠিয়ে নিয়ে তাদের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার ফিরিয়ে দিতে জাতিসংঘ ও আই সি সহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
চিনের উইঘুর মুসলিমদের ৫ মে ডোপা দিবস উপলক্ষে এসকল কর্মসূচি পালনের মধ্যমে তাদের ধর্মীয় সংস্কৃতি ধ্বংসের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, সিলেটের নেতৃবৃন্দ।
-এটি