আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: দেশের আট জেলায় পৃথক পৃথক বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আজ রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার সময় হওয়া বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে সিরাজগঞ্জে পাঁচজন, চট্টগ্রামে তিনজন, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা, শরীয়তপুর ও বরিশালে একজন করে মারা যান।
বজ্রপাতে সিরাজগঞ্জে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শাহজাদপুরে দুইজন, উল্লাপাড়ায় দুইজন ও বেলকুচিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের চর আঙ্গারু গ্রামের আমানত হোসেনের ছেলে জুয়েল রানা (২৪), নরিনা ইউনিয়নের বাতিয়া গ্রামের ভোলা পন্ডিতের ছেলে আলহাজ পন্ডিত (৫০), উল্লাপাড়ার সলঙ্গা থানার আঙ্গারু গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৫) ও উধুনিয়া ইউনিয়নের আগদিঘল গ্রামের শাহেদ আলীর ছেলে ফরিদুল ইসলাম এবং বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চর শমেসপুর গ্রামের ইউসুব আলীর স্ত্রী লাইলী খাতুন (৩৫)।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও মিরসরাই উপজেলায় বজ্রপাতে তিনজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, আজ সকালে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরে বাড়ির পাশের কৃষিক্ষেতে কাজের সময় বজ্রপাতে লাকি দাশ (৩৮) ও ভানু শীল (৪০) নামের দুইজন অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন। আহতরা হলেন মালতী রানী দাশ ও শোভা রানী দে।
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় বজ্রপাতে আয়শা বেগম (৪৮) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, উপজেলার চরজানাজাত ইউনিয়নের সামাদ খার কান্দি গ্রামের বালুরটেক এলাকার আয়শা তাঁর নিজ বাড়ি থেকে পাশের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে মারা যান তিনি।
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় বৃষ্টির মধ্যে মাঠে খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে অপূর্ব বর্মন (১৭) নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছে। নিহত অপূর্ব বর্মন উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের জেলে পাড়া গ্রামের স্বপন বর্মনের ছেলে। সে আলী আজগর অ্যান্ড আব্দুল্লাহ কলেজের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। এ ঘটনায় অপু বর্মন (২১) ও পরিচয় বর্মন নামের আরও দুই যুবক আহত হয়েছেন। আহত দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শেখরনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. নাসির শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুপুরের দিকে বৃষ্টি হলে স্কুলমাঠে ফুটবল খেলছিলেন কিছু যুবক। এ সময় বজ্রপাতে ওই কলেজছাত্র মারা যায়।
পাবনায় আম কুড়াতে গিয়ে যুথি খাতুন (১৮) নামের এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পাবনা সদরের মালঞ্চি ইউনিয়নের পাইকেল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুথি আটঘরিয়া দেবোত্তর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়তেন।
পাবনা সদর থানার ওসি নাছিম আহমেদ বলেন, বজ্রপাতে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শরীয়তপুরের জাজিরায় বজ্রপাতে আতিকুর রহমান মাদবর (১৪) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানান জাজিরা থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান। নিহত আতিকুর রহমান মাদবর (১৪) জাজিরার সেনেরচর ইউনিয়নের ছোট কৃষ্ণনগর এলাকার ফারুক মাদবরের ছেলে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় রুইতনপুর গ্রামে বজ্রপাতে কোরবান আলী (৪০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আলমডাঙ্গা থানার ওসি আলমগীর কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কোরবান আলী আজ বিকেলে মাঠে পাটক্ষেতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন কোরবান। আশেপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথে তিনি মারা যান।
বরিশালের উজিরপুরে নদী থেকে বালু উত্তোলনকারী ড্রেজার মেশিনে কাজ করার সময় বজ্রপাতে নান্টু বালী (৩০) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন সুমন খান (২৬) নামের আরেক শ্রমিক।
-এটি